লাইফস্টাইল ডেস্ক->>

মানুষের ত্বকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে বেঁচে থাকতে করোনাভাইরাস। জাপানের গবেষকরা এই দাবি করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, “ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (আইএভি)’ ভাইরাসের একটি ‘স্ট্র্যান্ড’ মানুষের ত্বকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে বেঁচে থাকতে পারে।”

আর জাপানি বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস ত্বকের নমুনায় বেঁচে থাকতে পারে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত।

তবে আশার কথা হল দুই ভাইরাস-ই ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার’য়ের সংস্পর্শে আসলে মারা যায় দ্রুত। ‘ক্লিনিকাল ইনফেকশাস ডিজিজ’ শীর্ষক সাময়িকীতে ৩ অক্টোবর গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

গবেষকরা সেখানে বলেন, “ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (আইএভি)’ ভাইরাসের তুলনায় করোনাভাইরাস স্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে পারার একটি বড় কারণ হল মানুষের ত্বকে করোনাভাইরাস অপেক্ষকৃত বেশি সময় থিতু থাকতে পারে।”

মহামারীর শুরুর দিকে করোনাভাইরাস বিভিন্ন সমতলে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। সেখান থেকে জানা যায়, কর্পূর সমতলে চার ঘণ্টা, কার্ডবোর্ডে ২৪ ঘণ্টা, প্লাস্টিক ও ‘স্টেইরলেস স্টিল’য়ে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত করোনাভাইরাস সক্রিয়ভাবে বেঁচে থাকতে সক্ষম।

তবে মানুষের ত্বকে তা কত সময় বাঁচতে পারে তা নিয়ে গবেষণা করার বিষয়টা নানান বিতর্ক ডেকে আনতে পারে। কারণ জেনেশুনে তো কোনো মানুষের ত্বকে প্রাণঘাতি ভাইরাস রেখে দেওয়া যায়না।

এজন্য জাপানের ‘কয়োতো প্রিফেকচারাল ইউনিভার্সিটি অফ মেডিসিন’য়ের গবেষকরা মৃতদেহ থেকে সংগ্রহ করেন মানব ত্বকের নমুনা। মৃত্যুর একদিন পর এই নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়।

গবেষকরা বলেন, “মৃত্যু ২৪ ঘণ্টা পরও মৃতদেহের ত্বক থেকে ‘স্কিন গ্রাফ্ট’ নেওয়া যায়, অর্থাৎ ত্বকের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। আর এজন্যই এই নমুনাগুলো গবেষণার যোগ্য।”

ওই নমুনাগুলোকে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এনে গবেষকরা দেখেন সেখানে ৯.০৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে। আর ‘আইএভি’ ভাইরাস বাঁচতে পারে ১.৮২ ঘণ্টা।

এই অবস্থায় ভাইরাসগুলো ‘মিউকাস’য়ের সংস্পর্শে আনতে করোনাভাইরাসের স্থায়িত্বকাল বেড়ে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায়। ‘মিউকাস’য়ের সংস্পর্শে আনার কারণ ছিল জীবিত মানুষের হাঁচি-কাশির প্রভাব বিশ্লেষণ করা।

তবে ৮০ শতাংশ অ্যালকোহল সমৃদ্ধ দ্রবণের সংস্পর্শে আসার ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই উভয় ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়। এই গবেষণার মাধ্যমে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন গবেষকরা।

গবেষকরা বলেন, “এই গবেষণায় করোনাভাইরাসের ‘ইনফেকশাস ডোজ’ বিবেচনায় আনা হয়নি। এর মানে হল ঠিক কী পরিমাণ করোনাভাইরাস একজন মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে সেটা বিবেচনার আওতায় ছিলনা। আর তাই এবিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন।”

Sharing is caring!