শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীর পাঠনবাড়ি রোডে চাঞ্চল্যকর ইউনুস বাবু (২২) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন বাবুর মা রেজিয়া বেগম। রোববার সকালে ফেনী মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় বাবুর বন্ধু ইউনুছ নবী রাকিব ও কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়। ফেনী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কদলগাজী রোডের রেনু হাজারী বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে মো. ইউনুছ নবী রাকিব পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুদ্বীপ রায় জানান, মামলার এজহারনামীয় আসামী রাকিবকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মামলার এজহারনামীয় অপর আসামী তাসপিয়া ভবনের কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনের ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আদালত মঞ্জুর করলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে শাহরিয়ারের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছিলো কেয়ারটেকার শাহীন।

মামলার প্রধান আসামী মো. ইউনুছ নবী রাকিব ফেনী পৌর ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ফেইসবুক তার প্রোফাইল ইনফোতে সে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি লেখা আছে। তবে রাকিব ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও কোন কমিটি কিংবা পদ পদবীতে নেই বলে জানিয়েছেন পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত রাজু। তিনি বলেন, রাকিব ছাত্রলীগের কোন কমিটিতে নেই। তবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সে যুক্ত রয়েছে।

বাবুর মা রেজিয়া বেগমের দাবি, রাকিবসহ আরও কয়েকজন বাবুকে বাসা হতে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সুযোগ থাকাও সত্ত্বেও ফেনী মডেল থানার এসআই বিকাশ রাকিবকে আটক করেনি। বরং ফেঁসে যাবার ব্যাপারে রাকিবকে সতর্ক করেছিল এসআই বিকাশ।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই বিকাশ মুঠোফোনে জানান, আমাকে জড়িয়ে রাকিবের মায়ের অভিযোগের বিষয়টি সত্য নয়। বাবুর মা ছেলের সন্ধানে রাকিবের সাথেই থানায় এসেছিলেন। তখনো রাকিবের বিরুদ্ধে তার মায়ের কোন অভিযোগ ছিল না।

তিনি বলেন, ওই ঘটনায় আহত শাহরিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আমি চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। জিজ্ঞাসাবাদে শাহরিয়ার জানিয়েছে, ঘটনার রাতে ভবনের কেয়ারটেকার শাহীন, বাবু এবং সে একসাথে ছিল। তবে শাহরিয়ার অসুস্থ থাকায় এর বেশি কিছু বলতে পারে নি।

বিকাশের ব্যাপারে বাদীর অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তাকে হত্যা মামলার তদন্ত করার ভার দেয়া হয়নি।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রিপন নাথ জানান, অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধারকৃত লাশটিতে ইতোমধ্যে পঁচন ধরেছে। সাধারণত এ ধরনের লাশের ময়নাতদন্ত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। ফেনীতে সে সুবিধা না থাকায় লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে শহরের পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিসের মনির উদ্দিন সড়কের তাসপিয়া ভবনের সেফটিক ট্যাংক থেকে চীনের আনুহ ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ুয়া ইউনুস বাবুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার ভোরের দিকে একই ট্যাংক থেকে বাবুর বন্ধু শাহরিয়ারকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ভবনের কেয়ারটেকার শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলো ইউনুস বাবু।

Sharing is caring!