শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীসহ দেশে অব্যাহত ধর্ষন ও নারী নির্যাতন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় পৈশাচিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন।সোমবার বিকালে শহরের ট্রাংক রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ সমাবেশসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ফেনী ছাত্র-যুব ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠন।

ফেনী ছাত্র যুব ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শহীদ মিানের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। মিছিলে ‘মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার-গর্জে উঠবে আরেকবার, বাংলাদেশের মাটিতে কোন ধর্ষকের স্থান নেই’ শ্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।
সংগঠরনরর আহবায়ক আমের মক্কী বলেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ধর্ষকদের দ্রুত সময়ে বিচার করতে হবে।

এদিকে নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে শহরের কলেজ রোড থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল করে সমাজতান্ত্রিক ছত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মিছিলটি মিজান রোড, মডেল থানা গেইট, বড় মসজিদ, প্রেসক্লাব, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফেনী শহর শাখার আহবায়ক নয়ন পাশা, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজনাথ সূর্য ও বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ফেনী জেলার সংগঠক জোবেদা আক্তার কচি।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নোয়াখালীতে নারী বিবস্ত্রের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে একই সময়ে একই দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। মানবন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, যেখানে ছাত্রলীগ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করার কথা সেখানে তারা ধর্ষণে মেতে উঠেছে। দ্রুত এসব ধর্ষণের ঘটনার বিচার করা না গেলে বাংলাদেশ ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।

একই সময় শহরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী শাখার উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে মিছিলটি ট্রাংক থেকে ফেনী মডেল থানা গেইট হয়ে জহিরিয়া চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল করিম, জেলা সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাওলানা একরামুল হক ভূঁইয়া, যুগ্ম-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আতিক উল্যাহ, সাবেক জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাছির উদ্দিন প্রমুখ।

ইসলামী আন্দোলনের ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা একরামুল হক বলেন, সারাদেশে ধর্ষকরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। অধিকাংশ ধর্ষনের ঘটনায় সরকার দলের লোকজন জড়িত। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, তবুও দেশে নারীর প্রতি এমন বর্বর নৃশংসতা মেনে নেয়া যায়না।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার একলাশপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করে স্থানীয় প্রভাবশালী একদল সন্ত্রাসী। ঘটনার প্রায় একটা মাস পরে নির্যাতনের ধারণ করা ভিডিও রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে মূহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। আসামীদের ধরতে অভিযান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনায় দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন নির্যাতিতা ঐ নারী। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার নোয়াখালী পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে। পরে থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

Sharing is caring!