শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রম। সকাল ১০টায় পৌরসভার টিকাদান কেন্দ্রে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন দিগন্ত। ‘ভিটামিন এ খাওয়ান, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ শ্লোগানে জেলার অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এসময়ে জেলায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৮ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৮ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল এবং ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৯ হাজার ৭০ শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬টি উপজেলায় ও ফেনী পৌরসভায় অস্থায়ী কেন্দ্র থাকবে ১ হাজার ১শ ৫টি। এ কেন্দ্রগুলোতে ৭জন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের অধীনে ২ হাজার ২শ ২৪জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। এছাড়া ১শ ২৫জন স্বাস্থ্য সহকারী সেবা প্রদান করবেন। তাদের পাশাপাশি ১শ ৯৪জন এফ ডব্লিউ ও ১শ ৫১জন সিএইচসিপি নিয়োজিত থাকবেন।

ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, ‘যেহেতু এই বছর বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী চলছে, সেহেতু যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশুকে নিয়ে ইপিআই কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ করা হলো। এ বছর অভিভাবকদের জন্য নিজহাতে শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সু্যোগ রাখা হয়েছে ক্যাম্পেইনে। কোন কোন ক্ষেত্রে আপনার সন্তানকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াবেন না, তা নিচে উল্লেখ করা হলোঃ-
# শিশুর বয়স ৬ মাসের কম বা ৫ বছরের বেশি হলে।
# শিশু অসুস্থ থাকলে
# গত চার মাসের মধ্যে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল পেয়ে থাকলে।
# শিশু খুব বেশি কান্নাকাটি করলে বা একদমই খেতে না চাইলে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সাল থেকে শিশুদের রাতকানা ও অপুষ্টি দূর করতে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। যখন এই কার্যক্রম গ্রহণ করেন তখন ০৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মাঝে রাতকানা রোগের হার ছিল ৩.৭৬ শতাংশ। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অব্যাহত রাখার ফলে বর্তমানে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগের হার শতকরা ১ ভাগের নিচেই রয়েছে।

Sharing is caring!