আন্তর্জাতিক ডেস্ক->>

করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করাতে গিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে যান এক মার্কিন নারী। কোভিড-১৯ সোয়াব টেস্টের জন্য নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করার সময় তার নাকে মারাত্মক আঘাত লাগে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার ব্রেন লাইনিং।

এরপর নাক দিয়ে মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে আসা তরল পদার্থ পড়তে শুরু করে। ৪০ বছর বয়সী ওই নারীর নাক থেকে নমুনা ঠিকভাবে সংগ্রহ করা হয়নি বা নমুনা নিতে গিয়ে বেশি খোঁচানোর ফলে তার এই দুর্দশা হয়।

বৃহস্পতিবার এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে একটি মেডিক্যাল জার্নালে।

মাথা ও ঘাড়ের অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক জারেট ওয়ালশ তার নিবন্ধে বলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় খুবই সতর্ক থাকা উচিত সংগ্রহকারীর। তা না হলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে যাদের তীব্র মাত্রার সাইনাসের সমস্যা রয়েছে অথবা যাদের মাথায় অস্ত্রোপচার হয়েছে তাদের কেবল মুখ থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা উচিত।

হার্নিয়া অপরেশনের আগে করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলেন ওই মার্কিন নারী। নিজের নাক থেকে নমুনা দেন তিনি। পরে তার নাক দিয়ে এক ধরনের ফ্লুইড বের হতে থাকে। সঙ্গে শুরু হয় বমি ও মাথাব্যথা। তার ঘাড়ও খুব শক্ত হয়ে যায় এবং আলোর সামনে গেলে তার চোখেও যন্ত্রণা করতে থাকে।

এরপরই বোঝা যায় নাক থেকে সোয়াব সংগ্রহের সময়ই কোন গণ্ডগোল হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের স্টিক নাকের একটু বেশি ভেতরে ঢুকে আঘাত লেগেছে।

এ ঘটনার বছরখানেক আগে ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হাইপারটেনশনের চিকিৎসা হয়েছিল ওই নারীর। চিকিৎসককে সেই খবর জানানো পর চিকিৎসক পুরনো স্ক্যানের সঙ্গে নতুন স্ক্যান মিলিয়ে সমস্যাটি বুঝতে পারেন। এরপর তার ব্রেনের ফ্লুইড পড়া বন্ধ করা হয়। তাতেও সমস্যা থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত তার অস্ত্রোপচার করতে হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

তবে যথাযথ চিকিৎসা না হলে তিনি বাঁচতেন কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক জারেট ওয়ালশ। নাক থেকে নমুনা সংগ্রহের সময় বিশেষভাবে সতর্ক ও প্রশিক্ষিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্কের লেনক্স হিল হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডেনিস ক্রাউস বলেন, যারা নমুনা সংগ্রহ করছেন তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে তাদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।

সূত্র: এএফপি

Sharing is caring!