বানিজ্য ডেস্ক->>

করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্বের জীবন জীবিকা দারুণ এক সংকটের মধ্যে পড়েছে। লকডাউনের রেশ কাটালেও তার রেশ কাটেনি এখনো। চলছে কর্মসংস্থান আর জীবিকার টানাপড়েন। বড় ব্যবসাগুলো কোনো রকমে টিকে থাকলেও ছোট ব্যবসাগুলো পড়েছে দারুণ বিপাকে। যারা টিকে আছেন, তাদের অবস্থাও ভালো নয়। করোনার মধ্যে কীভাবে ব্যবসা বাড়ানো যায়, তার উপায় বাতলেছে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোক্তা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান কো।

১। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কৌশলী হওয়া

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের হাজারো উপায় আছে। এর মধ্যে কিছু কিছু একদমই কম টাকায় বা বিনা মূল্যে করা যায়, যেমন ব্লগ লেখা বা ই–মেইলে নিউজলেটার পাঠানো। ব্যবসা–বাণিজ্যের অবস্থা ভালো না হওয়ায় খরচের বিষয়ে সচেতন হওয়াই ভালো। খরচের আগেই ভাবতে হবে, মুনাফা হবে কি না। এতে কাজ যেমন উদ্ধার হবে, তেমনি অপচয়ও হবে না।

২। ক্রেতার অবস্থা বোঝা

শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষ সশরীরে বাজারে যাওয়া বা কোথাও জমায়েত হওয়া কমিয়ে দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিকই সক্রিয়। সেখানে তারা গল্প বলেন, সুখ–দুঃখ ভাগাভাগি করেন। এই পরিস্থিতিতে উদ্দিষ্ট ক্রেতাশ্রেণি নির্ধারণ করে তাদের অনলাইন কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হতে হবে। এতে বোঝা যাবে, ক্রেতারা এখন পণ্যে কী ধরণের সুবিধা চাচ্ছেন, আর সে জন্য কত পয়সা খরচের সক্ষমতা তাদের আছে।

৩। অনলাইন বিক্রির কৌশল ঝালাই

সরাসরি কথা বলা, আর অনলাইনে কথা বলার মধ্যে এখন খুব বেশি তফাত নেই। ক্যামেরাকেই ক্রেতা মনে করে সাবলীলভাবে কথা বলার অনুশীলন করে নিতে হবে। বরং ক্রেতা যেন পণ্যের সঠিক রূপ বা গুণ বুঝতে পারেন এবং বিক্রেতার কথা শুনতে পান, সে জন্য ক্যামেরার মান, ঘরের আলো ও গ্রাহকযন্ত্রের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। পণ্যের সঙ্গে পণ্যের ব্যবহারবিধি, উপকারিতা-এসবও যুক্ত করা যায়। এভাবে ক্রেতাদের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করা যায়। ক্রেতা এই মুহূর্তে পণ্য না কিনলেও পরে ফিরে আসবেন।

৪। আগ্রহ তৈরি করতে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান

পারস্পরিক ভাব জমানোর জন্য ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী পুরস্কারও দেওয়া যেতে পারে। এমনকি বিশেষজ্ঞ দিয়ে ক্রেতার প্রশ্নের জবাবও দেওয়া যেতে পারে। এভাবে পণ্যের প্রতি ক্রেতার আগ্রহ বজায় রাখা যায়।

৫। বিক্রেতার দৈনন্দিন কাজ ক্রেতাকে জানানো

বিক্রি না হলেও সেই সময় সংযোগ তৈরি করা যায়। এর জন্য সবচেয়ে মোক্ষম উপায় হচ্ছে, এই মুহূর্তে ব্যবসায় কী হচ্ছে, তা ক্রেতা এবং বাজারকে জানাতে থাকা। ধরুন, আপনি জুতা তৈরি করেন, কিন্তু এখন উৎপাদন খুবই কম, আবার যা উৎপাদিত হচ্ছে, তা–ও বিক্রি হচ্ছে না। এই অবস্থায় হয়তো আপনি নতুন পণ্যের ডিজাইন করছেন, সেই ডিজাইনের ছবিই দেখান অংশীদারদের। এতে তারা পণ্যের যাত্রার সঙ্গে যুক্ত হবে এবং পণ্য সম্পর্কে আগ্রহী হবেন।

৬। অংশীদারদের সঙ্গে সত্য ও স্বচ্ছ সম্পর্ক তৈরি

মহামারিতে সবাই বিপদে আছেন। এ সময় ক্রেতা, কর্মচারী, সরবরাহকারী সবার সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের কথা বলতে হবে, অন্যদের কথাও শুনতে হবে। প্রকৃত অবস্থা জানা থাকলে সম্পর্ক সুন্দর থাকবে।

বাংলাদেশে পোশাক শিল্প চল্লিশ বছরের পুরনো একটি খাত। যার উপর ভর করে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি কারক। বার্ষিক আয় ৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। কিন্তু করোনা লকডাউনের পাঁচদিনের মাথায় তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সামাজিক মাধ্যমে এসে ক্রেতাদের কাছে পাওনা টাকা চেয়েছেন। খুব আবেগঘণ একটি বক্তব্য দিয়েছেন তিনি সেদিন। তার দাবি যৌক্তিক। তবে, করোনা মাহামারিতে নিজেদের শ্রমিকদের জন্য কিছু করার মত সক্ষমতা তাদের ৪০ বছরেও তৈরি হয়নি কেন?

তাদের ব্যবসা সাসটেইন্যাবিলিটিতে এত বছর তাহলে কী অবদান রেখেছে? এই প্রশ্নগুলো তুলেছেন খোদ এই খাত সংশ্লিষ্টরাই। কারণ তারা এমন একটি সময় তাদের দাবির কথা তুলেছে, যখন তাদের প্রধান ক্রেতা ইউরোপ মহামারির ভয়াবহতার শিকার। তাই ব্যবসার সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্থায়িত্ব নিয়েও কাজ করতে হবে। যেকোনো দুর্যোগে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে টিকে থাকার লড়াইটা হতে হবে মসৃণ।

Sharing is caring!