নিজস্ব প্রতিবেদক->>
সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের নবম শ্রেণির স্কুলছাত্র হাবিব উল্যা সুজনকে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ায় তৎকালীন ওসি হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তদন্ত শুরু করেছে ফেনী পুলিশ প্রশাসন। তিন বছর আগে দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না পেয়ে সুজনের মা খতিজা তার স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে ফাঁসানোর অভিযোগে বিচার চেয়ে তৎকালিন ফেনীর পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগটির তদন্ত না করায় তিনি গত ১৯ আগষ্ট বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বেনজির আহমদের কাছে ইমেইল ও রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, স্কুল ছাত্র সুজনের মা খতিজা আক্তারের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর ঘটনাটি তদন্তের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারকে আদেশ দেয়।
ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের আদেশ পেয়ে আমি অভিযোগটি তদন্তের জন্য সহকারী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছি।তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন করে প্রতিবেদন জমা দিলে সেটি পুলিশ সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।তিনি অভিযোগটির সুষ্ঠ তদন্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাবিব উল্যাহ সুজন সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের মৃত হারুনুর রশিদের ছেলে। স্থানীয় ওলামাবাজার হাজী সেকান্তর মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সুজনকে ২০১৭ সালের ২১ মে দুপুরে স্কুল গেইট থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠে ওসি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। ওই দিন রাতে স্থানীয় সংবাদ কর্মীর প্রশ্নবানে জর্জরিত ওসি হুমায়ুন কবির সুজনকে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি প্রচার না করার অনুরোধ করেন। পরদিন ওসির স্বীকারোক্তির অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত হলে সোনাগাজীতে তোলপাড় হয়।
আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগে খতিজা বেগম উল্লেখ করেন, দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না পেয়ে ওসি হুমায়ুন তাদের তার ছেলে হাবিব উল্যা সুজনকে ২০১৭ সালের ২১ মে ওলামাবাজার হাজী সেকান্তর মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গেইটে কয়েক শত মানুষের সামনে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তার ছেলেকে অস্ত্র ও ডাকাতির মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। কয়েকজন সাংবাদিক ওসি হুমায়ুন কবিরের কাছে ফোন করলে সে সুজনকে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ফেসবুকে তার স্বীকারোক্তির অডিও প্রচারিত হওয়ার পর ওসি হুমায়ুন কবির তার বাড়িতে গিয়ে ভুল স্বীকার করে চার্জশিট থেকে সুজনকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘটনার বিষয়ে কারো কাছে মুখ না খুলতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু খতিজা তার কথায় আশ্বস্ত না হয়ে ‘১৭ সালের ২৫ মে স্বশরীরে হাজির হয়ে ফেনীর তৎকালিন পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। চার্জশিট থেকে সুজনকে অব্যহতি দেওয়ার কথা বলে ওসি তাকে চাপ প্রয়োগ করে ৯ হাজার টাকা আদায় করেন।
পুলিশ সুপারের কাছে তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ আগষ্ট তারিখে তার কার্যালয়ের স্বারক নং ৪৩০১ মোতাবেক সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত থাকতে এএসপি খালেদ হোসেন একটি চিঠি প্রদান করেন। যথাসময়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সেখানে তিনি ওসি হুমায়ুন কবিরকে দেখতে পায়। এসময় এএসপি খালেদ হোসেন তাকে জানায়- এখানে কিছু করা যাবে না, আদালতে স্বাক্ষী দিয়ে আপনার ছেলে সুজনকে খালাসের ব্যবস্থা করা হবে। পরে জরুরি কাজের অযুহাত দিয়ে পরে আবার ডাকা হবে জানিয়ে তাকে চলে যেতে বললে খাতিজা বাড়ি ফিরে যায়। এরমধ্যে ওসি হুমায়ুন কবির কয়েকদফা তার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে মুখ বন্ধ রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি হুমায়ুন কবিরের চাপ অগ্রাহ্য করে ফেনীর আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে সে উপস্থিত হয়ে ইয়াবা দিয়ে গ্রেফতার করার ভয় দেখিয়ে তাকে আদালত পাড়া থেকে তাড়িয়ে দেয়।
বিএসসি পাস করা হুমায়ুন কবির ১৯৯৭ সালে পুলিশ বাহিনীতে উপ-পরিদর্শক পদে যোগদান করেন। তিনি ২০১০ সালে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। পুলিশের গোপনীয় প্রতিবেদনে দেখা যায়, চাকুরীকালিন সময়ে পুলিশ বিভাগের তদন্তে তিনি ৩৬টি অপরাধে অভিযুক্ত হয়। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন। এর আগে তিনি কক্সবাজার, ফেনীর ফুলগাজী, সোনাগাজী, লক্ষীপুর, হবিগঞ্জ, পাবনায় কর্মরত ছিলেন।

Sharing is caring!