আদালত প্রতিবেদক->>
ফেনী সদরের ছনুয়ায় ডাকাতি ও বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত ৮ জুলাই ছনুয়ার রেহান উদ্দিন ভূঞা বাড়ির আশরাফুল ইসলামের ঘরে ডাকাতি ও মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকায় ৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে অভিযুক্ত মো. ওমর ফারুক (২২) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।অভিযুক্ত মো. ওমর ফারুক  ফেনী সদর উপজেলার পশ্চিম ছনুয়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে। সে পেশায় এক সিমেন্ট কোম্পানীর গাড়ী চালক। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর হায়দার জানান, বুধবার ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে আসামী মো. ওমর ফারুক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

জবানবন্দিতে ওমর ফারুক জানায়, বাড়ির গৃহকর্তা আশরাফুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করে। তার ভাই প্রবাসে থাকে। বাড়ীতে কোন পুরুষ না থাকায়  ৮ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে নুরনবী, দেলোয়ার, একরামসহ তারা চারজন ঘরে প্রবেশ করে।ঘরের সবাই ঘুম থেকে জেগে যাওয়ায় ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় সবাইকে অস্ত্রের মুখে হাত-পা বাধা হয়। প্রথমে  আশরাফুলের বৃদ্ধা মা সকিনা বেগমের কক্ষে প্রবেশ ওড়না দিয়ে তার হাত-মুখ বেঁধে ফেলে একরাম।হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তিনি মারা যান।

পরে আশরাফুলের স্ত্রী ইসরাত জাহান ফারজানার কক্ষে প্রবেশ করে একরাম ও নবী। তারা ফারজানার  গলার চেইন, মোবাইল ও কানের দুল কেড়ে নেয়। চেইন নেবার সময় ডাকাত দেলোয়ার হোসেনের হাতে কামড় দেয় ফারজানা। ফারুক ঘরে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাংক কেটে নগদ টাকা নেয়। এরপর তারা আশরাফুলের বড় ভাইয়ের স্ত্রী নুর নাহার রানীর কক্ষে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে একরাম ফারুককে ৮ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর হায়দার আরো জানান, ডাকাতির সময় গৃহবধুর গলার চেইন কেড়ে নেবার সময় এক ডাকাতের হাতে কামড়ে দিয়েছিল গৃহবধূ। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত ওই ৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই রাতে ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া গ্রামে একদল ডাকাত আশ্রাফুল ইসলাম ভূঁঞার ঘরের গ্রীলের তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে। ডাকাতরা ঘরের নারী শিশু সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে সকলের হাত-পা বেঁধে দুজনকে শ্লীলতাহানি করে। এসময় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদের হামলায় গৃহকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম ভূঁঞার বৃদ্ধ মা ছকিনা খাতুন মারা যায়। এ ঘটনায় আশ্রাফুল ইসলাম ভূঁঞা বাদী হয়ে পরদিন ৯ জুলাই ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন।

ওই মামলায় গত ১৫ জুলাই পশ্চিম ছনুয়া বক্স আলী মিজি বাড়ীর সিদ্দিক আহমদের ছেলে একরামুল হককে  (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুরিশ। তার দেয়া তথ্যমতে পরের দিন কাজিরদিঘী এলাকা থেকে তার ভাই দেলোয়ার হোসেন সুরুজকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পশ্চিম ছনুয়ার সফি ডাক্তার বাড়ীর মোস্তফার ছেলে নুর নবীকে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

Sharing is caring!