ঢাকা অফিস->>

‘এত কাছে তবু এত দূরে’—এই ক’দিনে সাইফউদ্দিনের খুব ভালো অনুভব হলো বিষয়টি। লম্বা বিরতিতে ফেনী থেকে ঢাকায় এসেও থাকতে পারেননি হোটেল সোনারগাঁয়ের জৈব সুরক্ষা বলয়ে, করতে পারেননি দলের সঙ্গে অনুশীলন। কোভিড পরীক্ষায় ‘বর্ডার লাইন পজিটিভ’ হওয়ায় বিসিবি একাডেমি ভবনে থাকতে হয়েছে সঙ্গনিরোধ (আইসোলেশন) অবস্থায়। আর একাডেমি মাঠেই করতে হয়েছে অনুশীলন। অবশেষে মুক্তি মিলেছে সাইফউদ্দিনের। চার দিন আইসোলশনে থাকা তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার যোগ দিতে পেরেছেন আজ দলীয় অনুশীলনে।

প্রায় সাত মাস পরে দলীয় অনুশীলনে যোগ দিয়ে সাইফউদ্দিনের চোখেমুখে খেলে যাচ্ছে খুশির ঢেউ, ‘৬-৭ মাস পর দলের সঙ্গে মিরপুর মাঠে অনুশীলন করতে পেরে খুবই আনন্দিত। বিরতির পর প্রথমবারের মতো সেন্টার উইকেটে বোলিং করতে পেরে উচ্ছ্বসিত। এখানে আরও কিছুদিন সময় পাব অনুশীলনের। এই সময়ে যতটুকু উন্নতি করা, ঘাটতি পূরণ করা যায়, সে সব নিয়ে কাজ করব। যেহেতু প্রথমবারের মতো টেস্ট স্কোয়াডে (প্রাথমিক দল) সুযোগ পেয়েছি, খুবই আনন্দিত। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার।’

করোনার সময়টা সাইফউদ্দিনকে মানসিকভাবে বেশি শক্ত করেছে। ছবি: প্রথম আলো

করোনা বিরতিতে যে কজন ক্রিকেটার ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন, সাইফউদ্দিন তাঁদের অন্যতম। নিজ উদ্যোগে ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে অনুশীলন করেছেন, ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। তবুও তাঁর মনে হচ্ছে, অনেক ঘাটতি থেকে গেছে কাজে, ‘করোনার সময় আমার জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। যেহেতু নিজ জেলা ফেনীতে ছিলাম। ফিটনেসের কাজ করতে পেরেছি। কিন্তু স্কিল নিয়ে অন্যদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছি। ব্যাটিং যতটুকু পেরেছি সিমেন্টের উইকেটে করেছি। বোলিংটা একেবারেই করতে পারিনি। আজ বোলিং করেছি, গত দুই দিনও করেছি। ছন্দ পেতে আরও সময় লাগবে। কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছি। তারপরও আশাবাদী আরও কিছুদিন বোলিং করতে পারলে হয়তো বা আগের জায়গায় ফিরে আসতে পারব।’
২৩ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার এরই মধ্যে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের গুরুত্ব বোঝাতে পেরেছেন। কিন্তু তাঁর মতো অলরাউন্ডার টেস্ট দলেও ভীষণ অনুভব করেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। লাল বলে সাইফউদ্দিন নিয়মিত হতে পারলে বাংলাদেশ অনায়াসে তিন পেসার নিয়ে খেলার সাহস দেখাতে পারে। সাইফউদ্দিন নিজেও স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশ টেস্ট দলে খেলার, ‘প্রতিটি ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে টেস্ট খেলা। আমিও ব্যতিক্রম নই। চেষ্টা থাকবে সুযোগ পেলে ভালো কিছু করা। আমার এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নিজেকে ফিট করা, দক্ষতায় উন্নতি করা। আমি কিছুটা চিন্তিত আমার স্কিল নিয়ে। প্রায় ৬-৭ মাস বোলিং, ব্যাটিং সেভাবে করতে পারিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেভাবে দাপটের সঙ্গে খেলতে হয় সে অনুযায়ী অনুশীলন করতে পারিনি। তারপরও যে সময়টা আছে, যদি শ্রীলঙ্কায় যাই, সেখানে যে সময়টা পাব, নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করব।’
অনুশীলনে পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের পরামর্শ শুনছেন সাইফউদ্দিন

সাইফউদ্দিনকে এক জটিল চোট সামলে খেলতে হয়। পিঠের নিচের চোট তাঁকে অনেক ভুগিয়েছে। চোটটা সামলেই গত বিশ্বকাপ খেলেছেন। গত বছরের শেষ দিকে বাধ্য হয়েই তাঁকে নিতে হয়েছে বিরতি। গত মার্চে ফিরে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর আবার বিরতি, এটা অবশ্য করোনার কারণে। সাইফউদ্দিনের হিসেবে তিনি প্রায় ১ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে। এ কারণে চ্যালেঞ্জটা অন্যদের চেয়ে তাঁর একটু বেশি, ‘যেহেতু আমার একটা বড় চোট আছে, অনেক বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা এই চোটের কারণে ছয় মাস বাইরে ছিলাম, ফিরে এসে ফিট হয়ে দুই-একটা ম্যাচ খেলেই আবার করোনার কারণে ছয় মাস খেলা থেকে দূরে থাকতে হয়। আমার জন্য তাই কঠিন। এক বছরের মতো মাঠের বাইরে। এ সময়ে ফিটনেস নিয়ে কাজ বা ম্যাচ খেলার তেমন সুযোগ হয়নি। যেহেতু সামনে অনেক ম্যাচ আছে, যত তাড়াতাড়ি এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারব, ততই ভালো। আমার লক্ষ্যই থাকবে তাড়াতাড়ি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়া। সেটি আমার ও দলের জন্যই ভালো।’
সাইফউদ্দিন মনে করেন, করোনা বিরতি তাঁকে আগের চেয়েও মানসিকভাবে বেশি শক্ত করেছে, ‘অনেক সময় কাজ করতে মন চাইত না। তারপরও নিজেকে জোর করেছি, উদ্বুদ্ধ করেছি পারছি না, করছি। এসব নিজে নিজে যখন করেছি তখন মনে হয়েছে আমার উন্নতি হয়েছে এবং আরও উন্নতি করতে হবে। এ জিনিসগুলো এই সময়টাতেই উন্নতি করেছি।’
এই মানসিক শক্তি দিয়েই তিনি জয় করতে চান জটিল চোটসহ বাকি সব প্রতিবন্ধকতা।

Sharing is caring!