নিজস্ব প্রতিনিধি->>

খানা-খন্দে ভরা ফেনীর ‘ভিআইপি’ সড়ক হিসেবে পরিচিত পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডে সার্কিট হাউজ সড়কটি। নিম্মমানের কাজ ও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কে যানচলাচল ব্যহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছে স্থানীয় জনগন ও যানবাহনে চলাচলরত যাত্রী-চালকরা।

সরেজমিন ঘরে দেখা যায়, শহরের অদূরে মহিপাল সার্কিট হাউজ সড়কটি ভিআইপি সড়ক হিসেবে দীর্ঘাদন ধরে পরিচিত। এ সড়কের পাশে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা দায়রা জজ এর বাংলো রয়েছে। একই সড়কে পাসপোর্ট অফিস, মহিপাল কলেজ ও বেসরকারী শিশু পার্ক রয়েছে। প্রতিদিন জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

এ সড়কে সার্কিট হাউজের পাশে রয়েছে সৌন্দর্যের নিদর্শন ফেনীর ঐতিহ্যবাহী বিজয় সিংহ দিঘী। এটি ভ্রমন পিয়াসীদের জন্য বড় একটি পর্যটন স্পটও। এখানে প্রতিদিন শতশত দর্শণার্থী দুর-দুরান্ত থেকে ঘুরতে আসেন। এই জনগুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি সড়কটি একটু বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা যায়।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল ফ্লাইওভার থেকে সার্কিট হাউজ মসজিদ পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশে কার্পেটিং ঠিক থাকলেও সার্কিট হাউজ মসজিদের সামনে থেকে দক্ষিনে লুদ্দারপাড় হয়ে পূর্ব বিজয় সিংহ মধুয়াই পোল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে খানাখন্দ, গর্ত সৃস্টি হয়ে ডোবায় পরিনত হয়েছে। এতে করে সড়কে প্রতিদিন গাড়ি চলাচল এবং জনসাধারনের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৩শ সিএনজি চালিত অটোরিকসা, শতাধিক মোটর চালিত অটোরিকসা চলাচল করে। এ রাস্তা দিয়ে কয়েক গ্রামের মানুষ মহিপালে চলাচল করেন।

এ সড়ক দিয়ে মহিপাল হয়ে সদর উপজেলার সুন্দরপুর, আফতাব বিবির হাট, কুঠিরহাট, তাকিয়া বাজার, সোনাগাজী ও দাগনভূঁঞা উপজেলায় যাওয়ার বেশ কিছু শাখা রাস্তা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিক্সা চালক আনোয়ার হোসেন, সফিকুর রহমান, হামিদ আলী ও শরিফ মিয়া জানান, সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তাদেরকে যাত্রী নিয়ে মহিপালে যাতায়ত করতে হয় এবং মহিপাল থেকে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়।

সার্কিট হাউজ সংলগ্ন মসজিদের সামনে থেকে দক্ষিনে এই সড়কটির বাকী দেড় কিলোমিটার অংশে পূর্ব বিজয় সিংহ মধুয়াই পোল পর্যন্ত বিগত ৮/৯ বছরেও মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে এ সড়কের অবস্থা আরো নাজুক। এ সড়কের পাশে শিশুদের জন্য বিনোদনের জন্য রয়েছে একটি গোল্ডেন শিশুপার্ক।

ঐতিহ্যবাহী বিজয়সিংহ দিঘী দেখতে ও নির্মল বাসাতে হাটাহাটি করতে প্রতিদিন এখানে শতশত মানুষের সমাগম ঘটে। বেহাল এ সড়কে বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে কর্দমাত্ব হওয়ার কারনে গাড়ি চলাচল ও জনসাধারনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

এ বিষয়ে ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, এ সড়কটি ফেনী পৌরসভার অধীনে নেই। এই সড়কের কাজ এক এক সময় এক এক সংস্থা করে থাকেন। তবে জনসাধারণ ও গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে বেহাল সড়ক মেরামতের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে ফেনী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহছান উদ্দিন জানান, গত কিছুদিন আগে ফেনী সার্কিট হাউজ সড়কটি পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে সার্কিট হাউজ বাংলো হয়ে নোয়াখালী সড়ক পর্যন্ত এই অংশটি সড়ক বিভাগের অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে।

Sharing is caring!