ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি->>

ছাগলনাইয়ায় ওয়াহিদুর রহমান স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল স্বল্পমূল্যে মিলছে চিকিৎসা সেবা। প্রতিদিন শতাধিক রোগী বহিবিভাগ ও অন্তঃবিভাগে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। স্বল্পমূল্যে সপ্তাহে তিনদিন চোখের ছানি অপারেশন হওয়ায় সেবা পাচ্ছে স্থানীয় রোগীরা।

শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামে খন্দকার বাড়ির আঙিনায় ‘ওয়াহিদুর রহমান স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেন এলাকার কৃতি সন্তান, দানবীর ইউনাইটেড ট্রাস্টের ট্রাস্টি খন্দকার মইনুল আহসান শামীম। ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ওয়াহিদুর রহমান স্বাস্থ্যকেন্দ্র দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র (আউটডোর সেবা ও চক্ষু হাসপাতাল) ৩ তলা বিশিষ্ট ২১ শয্যার এ হাসপাতাল রয়েছে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড। নীচ তলায় আউটডোর সেবার পাশাপাশি ১ম ও ২য় তলায় চক্ষু হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে।

হাসপাতালের বহির্বিভাগ সাধারণ রোগীদের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সপ্তাহে ছয়দিন সব ধরনের রোগীর ব্যবস্থাপত্র ও অসহায় রোগীদের বিনামুল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা আউটডোর সেবায় বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। রয়েছে মহিলাদের আল্ট্রাসহ গাইনী সেবা। শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। এখানে রয়েছে রোগ নির্ণয়ের জন্য রয়েছে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবরেটরি। যার খরচ বাজার মূল্য থেকে প্রায় ৫০শতাংশ কম। এ ছাড়া শিশু বিভাগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চক্ষু পরীক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি মেডিকেল চেকআপসহ নিয়মিত চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অত্যাধুনিক ও মানসম্মত যত্রাংশ দিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার টিম দ্বারা মাত্র ৬৭৫ টাকায় চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। ৩৭৫ টাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ৩০০টাকা অপারেশন রেজিঃ মোট ৬৭৫ টাকা। (নরমাল লেন্স, থাকা, ডাক্তার ফি, অপারেশন, ওটি মেডিসিন সব এই খরচের আওতায়) বাকি সব খরচ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ বহন করে থাকে। এক সাথে ২১ জনের ছানি অপারেশন করে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালে। স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাড়াও আশপাশের মিরসরাই, রামগড়, ফটিকছড়ি, সোনাগাজী ও ফেনী সদরের রোগীরা ভিড় করছে।

মিরসরাইয়ের করেরহাট থেকে চিকিৎসা সেবা আসা গোলাম মর্তুজার বলেন, আমার আব্বার চোখের অপারেশন করাতে এখানে এসেছি। আজ ওনার চোখের অপারেশন হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে আব্বার চোখে সমস্যা। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি লাভ হয়নি। খবর পেয়ে গত সপ্তাহে এখানে ডাক্তার দেখাই। আজ চোখের অপারেশন হবে।

স্থানীয় সংগঠন মোর্শেদ হোসেন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে নিভৃত পল্লীতে গড়ে উঠা হাসপাতাল দেখে যে কেউ ভাবনায় পড়তে পারেন। অজপাড়াগাঁয়ে মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য এমন হাসপাতাল, সত্যি বিরল। এখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন দেশের নামকরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। একজন ভালো চিকিৎসক দেখানোর জন্য মানুষ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী শহরে ছুটে যায়। অথচ মানুষকে সেবা দিতে উল্টো চিকিৎসকরা এখানে ছুটে আসেন।

বারইয়ারহাটে ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার নূর উদ্দিন মাসুক বলেন, আশেপাশে যতগুলো দাতব্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশে এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম ও দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প গঠিত হয়েছে। যারা এই মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রুপের একটি সমাজকল্যাণ মূলক সংস্থা ইউনাইটেড ট্রাস্ট। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবে এই সংস্থাটি তাদের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সাথে নিজেদেরকে জড়িত রেখেছে। সমাজের গরীব ও বঞ্চিত জনসংখ্যার দুর্দশা হ্রাসের প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

ইউনাইটেড ট্রাস্টের ট্রাস্টি খন্দকার মইনুল আহসান শামীমের নিজ গ্রামে তারই পৃষ্টপোষকতায় ইউনাইটেড ট্রাস্টের অর্থায়নে এখানে গড়ে উঠেছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠিন, দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প, মসজিদ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন ইউনাইটেড ট্রাস্ট ফেনী অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী খন্দকার নুরুল ইসলাম আজাদ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফয়সল ভূঁইয়া বলেন, ওয়াহিদুর রহমান স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাতা ইউনাইটেড ট্রাস্ট। ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে দাতব্য ও চক্ষু হাসপাতাল। এ হাসপাতাল ছাড়াও অসহায় এলাকাবাসীদের জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। ইউনাইটেড ট্রাস্ট মফস্বলের মানুষের জন্য আর্শিবাদ। তারা যেভাবে এলাকার মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তা সত্যি প্রশংসার দাবীদার।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন ধরণের প্যাথলজিকাল পরীক্ষা ছাড়াও, এখানে রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারবৃন্দ। যারা সবসময় সর্বোত্তম চিকিৎসা দিতে বদ্ধপরিকর। বিনামূল্যে সেবাদান, ও সুলভ মুল্যে পরীক্ষা নিরীক্ষার সু-ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এছাড়াও গরীব ও অসহায় রোগীদের জন্য রয়েছে যাকাত তহবিল হতে বিনামূল্যে ঔষধের ব্যবস্থা।

Sharing is caring!