বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীতে দীর্ঘদিন পর সদর উপজেলা ও পৌর যুবদল সহ ১১ ইউনিটের কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে যারা ডজনে ডজনে মামলার আসামী ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের বাদ দিয়েই কমিটি করতে যাচ্ছে ফেনী জেলা যুবদল। জেলার শীর্ষ নেতাদের আনুকূল্য পেতে নিয়মিত ধর্ণা দিচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। বিগত সময়ে নিষ্ক্রীয় থাকা ব্যক্তিরাও টাকার বিনিময়ে শীর্ষ পদ ভাগিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনটি অভিযোগ করেছেন একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামী ও নির্যাতিত যুবদল কর্মীরা। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তুমুল সমালোচনা।

দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, যুবদলের বর্তমান সভাপতি জাকির হোসেন জসিম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন খোন্দকার জেলার আওতাধীন ইউনিটসমূহের ১১টি ইউনিটের কমিটি ঘোষনার উদ্যোগ নেন। ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদনের জন্য ৬ ইউনিট কমিটি নাম কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কমিটিতে সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি পদে ধলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার নিজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ধর্মপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম রাহাত, পৌর কমিটির সভাপতি পদে সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন সোহাগের নাম জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলা শাখার শীর্ষ পদে সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক শাহাদাত হোসেন, মোটবী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মাসুক, পৌর কমিটিতে নুর ইসলাম, হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারি ও শরীফুল ইসলাম রাসেলের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে কমিটি ঘোষণার খবরে বঞ্ছিত হওয়ার আশংকায় হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জানান, সদর উপজেলায় সাবেক আহবায়ক আতিকুর রহমান মামুন দুই ডজনেরও অধিক মামলা নিয়ে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও তাকে বাদ দিয়ে নিজাম উদ্দিন নামে একজনকে আহবায়ক করার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। ফেনী পৌর যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব পদে রাসেল পাটোয়ার ও নুর ইসলামকে এড়িয়ে নিজাম উদ্দিন নামে ছাত্রদলের এক নেতার নাম কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে তারা দৃশ্যমান কোন কর্মকান্ড নেই। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাও তাদের চিনেন না।

যুবদল কর্মীদের অভিযোগ জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিমের বাসায় সে বাজার পৌঁছে দেন। এটি তার দলীয় পদ পাওয়ার বড় উৎস। এছাড়া সদস্য সচিব নামে যার নাম শুনা যাচ্ছে সে বয়সে অনেক জুনিয়র হলেও আত্মগোপনে থাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার নাছির উদ্দিনের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ পদ দখল করতে যাচ্ছে। তবে বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করেন সদস্য সচিব পদ প্রার্থী রাহাত।

সদর উপজেলা কমিটিতে আহবায়ক পদে প্রত্যাশী শাহাদাত হোসেন জানান, দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকায় ৪০টির অধিক মামলার আসামী হয়েছি। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকবার বাড়ি-ঘরে হামলা করেছে। কিন্তু কি কারনে আমাকে বাদ দিয়ে অপরিচিত একজনকে আহবায়ক করার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে তা জানা নেই।

একইভাবে ফেনী পৌর যুবদলের আহবায়ক পদে যার নাম শুনা যাচ্ছে তার গ্রামের বাড়ি ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠান নগর ইউনিয়নে। সাধারণ কর্মীদের প্রশ্ন কিভাবে সে ফেনী পৌর কমিটির আহবায়ক হবেন। তাছাড়া সদস্য সচিব পদে যার নাম শুনা যাচ্ছে সে গাড়ি চালক ও ফেনী পৌর কমিটির জাসাস সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন সোহাগ।

ফেনী পৌর যুবদলের সদস্য সচিব প্রার্থী হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পৌর যুবদলের সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছি। মামলা-হামলা এমনকি কারাভোগও করেছি। জানতে পেরেছি আমাকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জেলা যুবদল সভাপতির মোটর সাইকেল চালককে সদস্য সচিব করা হচ্ছে।

সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হিসেবে যার নাম শুনা যাচ্ছে তার নাম ইমাম হোসেন প্রবির সে জেলা যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন এর ছোট ভাই বর্তমানে সোনাগাজী থানায় ও ফেনী থানায় চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। গত কিছুদিন আগে তার ভাইকে র‌্যারে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। তার আরেক ভাইও ডাকাতি মামলায় জেলহাজতে রয়েছে।

যুবদলের একাধিক সূত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, ফেনী জেলা জাতীয়বাদী যুবদল প্রকৃত ব্যক্তিদের কাছে নেই। এটি সেন্ডিকেট মার্কা হয়ে গেছে। এটি একটি দলের জন্য নি:সন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। এছাড়াও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এ ধরনের কমিটি গঠন একটি দলকে দুর্বল করার জন্য যথেষ্ট। তারা জোর দাবী জানান অবিলম্বে ত্যাগী ও নির্যাতিতরা দলের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আসলে দল ও দেশ উপকৃত হবে এবং ভবিষ্যতে ত্যাগীরা আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার নাছির উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে জেলার ৬ ইউনিট কমিটি অনুমোদনের জন্য নাম কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। কাদের নাম পাঠানো হয়েছে এমন বিষয়টি তিনি জানাতে অপারোগতা প্রকাশ করেছেন।

জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জসিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজনীতি মানে দলের মধ্যে বিক্ষোভ নয়, সমঝোতা করা। এখানে কেউ থাকবে মানে আর সবাই বেরিয়ে যাবে না। নির্বাচিত ব্যক্তি দলের মধ্যে একজনই হয়, সবাইকে নির্বাচন করা যায় না। তবে ঐ দশজনই দলের সদস্য। এদের বাদ দিয়ে কখনো দলের অস্তিত্ব চিন্তা করা যায়না। তাই রাজনীতি হোক দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, এখানে ব্যক্তি স্বার্থ নগন্য। দল জিতলেই আমরা জিতবো, এগিয়ে যাবো একদিন না একদিন।’

যুবদলের কমিটি নিয়ে নেতাদের ক্ষেভের বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, ‘বিএনপি একটি বৃহত্তর দল। তাদের সহযোগী সংগঠন গুলোতে বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী থাকবে এটি স্বাভাবিক। তবে কেউ টাকার বিনিময় পদ পাচ্ছে এমন কোন তথ্য আমার জানা নেই। যারা পদ বঞ্চিত হবে মনে করছে তারাই হয়তো এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়াচ্ছে।’

Sharing is caring!