আন্তর্জাতিক ডেস্ক->>

কোন মানুষ যদি বোকা হয় তাহলে তার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি তুলনা করা হয় গাধার সঙ্গে। গাধাকে নিয়ে বিভিন্ন কৌতুক হাসি ঠাট্টা থাকলেও ভারতের তেলঙ্গনায় এই গাধার দুধ প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার রূপিতে( বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার টাকা)। গবেষণায় জানা গেছে গাধার দুধে আছে কম ফ্যাট। এছাড়া রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। আরও আছে ভিটামিন এ, বি-১, বি-২, বি-৬, ডি, সি, ই। ওমেগা-৬। ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক।

ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময় জানায়, এজন্য ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল হিসেবে গাধার দুধের চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এ কারণে আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও এই দুধের চাহিদা বেড়েছে অনেক। সম্প্রতি তেলঙ্গনার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বেআইনিভাবে চড়া দামে গাধার দুধ বিক্রি হচ্ছে। নবজাতকদের পুষ্টির জন্য ওই এলাকায় গাধার দুধের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাদের দাবি, চিকিত্‍সকরাই বলেছেন, গাধার মিষ্টি দুধ নিয়মিত খেলে খুব দ্রুত ব্যথা, যন্ত্রণার উপশম হয়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং যৌবন দীর্ঘায়িত হয়।

দক্ষিণ ভারতে ওষুধ হিসেবে গাধার দুধের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানে ১ চামচ দুধ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ১৫০ রূপিতে।
তবে গাধার দুধের চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর খামারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কেরালার এর্নাকুলামের অ্যাবি বেবি মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার্থী। তিনি এমন ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন যেখানে বেশি প্রতিযোগিতা নেই। নেট-বইপত্র ঘেঁটে শেষে গাধার দুধের ব্যবসা তার পছন্দ হয়। এজন্য শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে রামমঙ্গলমে ২০১৭ সালে গাধার খামার করেন।

প্রথমেই গাধার দুধ থেকে তৈরি ক্রিম ও শ্যাম্পু তৈরি বাজারজাত শুরু করেন। আর্থারাইটিসের ক্রিমের দাম ৪,৮৪০ রূপী, এগজিমার ক্রিম ৬,১৩৬ । ২০০ মিলিলিটারের মেডিকেটেড শ্যাম্পুও ২,৪০০ রূপী। অ্যাবি বেবি করেন, গত অর্থ বছরে তার ব্যবসায় লাভ হয় প্রায় ১.১৫ কোটি রূপি। যা আগের অর্থ বছর থেকে ৭০% বেশি।

Sharing is caring!