নিজস্ব প্রতিবেদক->>

ফেনীতে বিস্কুট কারখানার নারী শ্রমিক আরজু আক্তারে (১৮) মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল তৈরী হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের পর অপমৃত্যুর মামলা করলেও নিহত নারীর স্বজনরা দাবি করেছে আরজুকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। নিহত আরজু আক্তার সোনাগাজী উপজেলা দক্ষিণ চর সাহাভীকারি গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। সে ফেনী সদর উপজেলার কালিপালে ইয়াসিনের বিস্কুট কারখানায় কাজ করতো।

নিহত আরজুর মা ঝর্না বেগম জানান,কালিপালে ইয়াসিনের বিস্কুট কারখানায় কাজ করতো তার মেয়ে আরজু। কারখানার পাশেই মালিকের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো আরজু। তার পাশের কক্ষে থাকতো কারখানা মালিক মো. ইয়াসিনের ভাগ্নে নুর উদ্দিন রিপনের (২২)। কিছুদিন পূর্বে আরজুর সাথে রিপনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি জানতে পেরে উভয় পরিবার তাদের বিয়ের ব্যপারে সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে আরজুর সাথে রিপনের বিয়ের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে কারখানা মালিক মো. ইয়াসিন এতে বাধ সেধেছিলো।

ঝর্না বেগম আরো জানান, গত শনিবার আরজু তার ঘরে একা ছিল। রাতে প্রেমিক রিপন আরজুর ঘরে প্রবেশ করে অবস্থান করে। ওই সময়ে মুঠোফোনে আরজু ও রিপনের সাথে কথা বলে ঝর্না বেগম। কিন্তু রোববার সকালে ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শ (এসআই) নাছির উদ্দিন মুঠোফোনে ঝর্না বেগমকে জানায় তার মেয়ের মৃৃত্যু হয়েছে। আরজুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখেন ওড়না বাধা এবং উলঙ্গ অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে মেয়ের নিথর দেহ।

তিনি আরো জানান, আরজুকে কারখানা মালিক মো. ইয়াসিন, তার ভাগ্নে নুর উদ্দিন রিপন ও তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

আরজু হত্যার ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শ (এসআই) নাছির উদ্দিন জানান, রোববার নিহত শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপতালের মর্গে প্রেরণ করে। পরদিন সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাতক্ষনিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যার আলামত পেলে হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে। তবে ঘটনার পর থেকে কারখানা মালিক মো. ইয়াসিন ও তার ভাগ্নে দাগনভুঞার নাজিমপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে নুর উদ্দিন রিপন পলাতক রয়েছে।

Sharing is caring!