নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনী জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজারে পেঁয়াজ-রসুন-আদার মূল্য বৃদ্ধি করে বিক্রয়ের অভিযোগে সোনাগাজী-দাগনভূঞা-ছাগলানাইয়া উপজেলার ১৩ ব্যবসায়ীর জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তার।

সোমবার দুপুরে সোনাগাজী পৌর শহরে অভিযান চালায় সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব। এসময় পেঁয়াজের দাম বেশি নেওয়ায় পৌর শহরের ব্যবসায়ী আহসান উল্যাহকে ১০ হাজার, সুবাশ চন্দ্র দাসকে ৫ হাজার এবং শুভ বসাককে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালে আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও খাদ্য সামগ্রী বিক্রির দোকানীকে প্রাথমিকভাবে সর্তক করা হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব জানান, দেশে পেঁয়াজের সংকট না থাকা শর্তেও কিছু ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মওজুদ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে পাইকারী বাজারের অযুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। সোমবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাজার তদারকি করতে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে অন্যত্র চলে যায়।
অভিযানে করোনাকালে মাস্ক না পরায় ৮-১০জন লোককে করোনার সংক্রমণ এড়ানোর লক্ষে মাস্ক পরার জন্য নিদের্শনা দিয়ে সর্তক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এদিকে একই দিন দুপুরে উপজেলার বক্তারমুন্সি বাজারে অভিযান পরিচালনা করে উপজেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসলিমা শিরীন। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বক্তারমুন্সি বাজারে ফুটপাত দখল, দোকানে মুল্য তালিকা না থাকায় ভোক্তা অধিকার আইনে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বব্যবসায়ী নুরুল হককে ২ হাজার, মো. সুমনকে ২ হাজার ও মো. শাহাজানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে পেঁয়াজ মওজুদ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে পাইকারী বাজারের অযুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনীয়া বাজারে পরিচালনা করা হয়।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হোসেন জানান, সিলোনীয়া বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট অভিযানে অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে চার দোকানদারকে জরিমানা করা হয়।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাগলানাইয়ায় অভিযনা চালায়। সোমবার দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারি পরিচালক সোহেল চাকমা উপজেলার কালভার্ট বাজার ও ছাগলনাইয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা না থাকা ও ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করায় ৬ দোকানীর ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে।

সহকারি পরিচালক সোহেল চাকমা জানান, অভিযানে ১৯৮ দামে কেনা আদা বাজারে ২২০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা না থাকা ও ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করায় ৬ দোকানীর ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসময় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা না করা এবং মূল্য তালিকা সবসময় হালনাগাদ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

অভিযানে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ফখরুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন শহরের ইসলামপুর আবু বক্কর সড়কে পেঁয়াজ-রসুন-আদার পাইকারী দোকানে অভিযান চালায়। এসময় মূল্য তালিকা এবং বিক্রয়মূল্য যাচাই করে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় কমিশন এজেন্টদের ক্রয়মূল্য নিয়মিত লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ ৩৭-৩৮ টাকা দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। গত দুইদিনের চেয়ে পেঁয়াজের মূল্য কমে এসেছে এবং আশা করা যায় নিয়মিত মনিটরিং এর ফলে দাম আরও কমে আসবে।

Sharing is caring!