সদর প্রতিনিধি->>

ফেনীর ধলিয়ায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর, দোকান ভাংচুর করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি আবদুর রহিম (৪০)। তার ধারালো অস্ত্রের হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ৭ জন। সোমবার সকালে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, মাছিমপুর গ্রামের কামলা বাড়ির ফয়েজুল করিমের ছেলে আবদুর রহিম সোমবার সকালে একটি ছুরি, ধামা, চাইনিজ কুড়াল হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হয় হামলা শুরু করে।
এসময় আবদুর রহিম গ্রামের কামলা বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ১০টি ঘর, মৌলভী বাড়ি, ছিদ্দিক দর্জি বাড়ি সহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে প্রায় ৫০ পরিবারের বসতঘর, মসজিদ, দোকানে ব্যপক ভাংচুর করে।

ভাংচুরে বাধা দিলে আবদুর রহিম ওই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আবুল হাসেমকে কুপিয়ে কান কেটে ফেলে। একে একে শহীদ উল্লাহ (৬৫), আবদুর রহমান (৭০), রহমত উল্লাহ (৬৫), মিয়াধন (৫০) ও আবদুল কাদেরকে (৪০) কুপিয়ে আহত করে। এছাড়া নজির আহম্মদ নামে সত্তোরোর্ধ এক বৃদ্ধের হাত ভেঙ্গে ও মাথা ফাটিয়ে দেয়। একই পর্যায়ে আবুল কালাম তার পালিত দুটি ছাগল জবাই করে দেয়।

এদিকে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করলে আশংকাজনক অবস্থায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আবুল হাসেমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

স্থানীয়রা স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: আবদুর রহিম ভূঁইয়া লিটন জানান, হামরার ঘটনাটি জানার পর তিনি পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ভারসাম্যহীন আবদুর রহিমকে আটক করে।

ধলিয়া উইনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার আহম্মদ মুন্সি জানান, আবদুর রহিম দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর লকডাউনের পূর্বে দেশে এসেছে। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মানসিক সমস্যার কারণে তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, আটকৃত আবদুর রহিমকে পরিবারের সহযোগীতায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

Sharing is caring!