শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে সেপ্টেম্বরের চলতি সাপ্তাহ নাগাদ করোনা শনাক্তের হার নিম্নমুখী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মীর হোসাইন দিগন্ত। রবিবার দুপুরে ফেনী প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

ফেনী জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজজামান এর সভাপতিত্বে সভায় সিভিল সার্জন ডা. মীর হোসাইন দিগন্ত, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছাঃ সুমনী আক্তার, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকমসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও করোনা প্রতিরোধ জেলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিভিল সার্জন ডা. মীর হোসাইন বলেন, গত ছয় দিনে (৩০ আগস্ট-৪ সেপ্টেম্বর) ফেনীতে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৬৭ এবং করোনা শনাক্ত ৩৭ জন। আগস্টের প্রথম সাপ্তাহে ২৬১টি নমুনার মধ্যে ৯২ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। একই মাসের শেষ সাপ্তাহে (২২-২৯ আগস্ট) ৩৮৭ নমুনায় করোনা শনাক্ত হন ৫৮জন।গত একমাসে নমুনার পরীক্ষার তুলনায় ধীরে ধীরে শনাক্তের হার কমছে।

সিভিল সার্জন আরো জানান, জেলায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭২০ জন, মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৯টি। তিনি জানান, ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১জন। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি প্রাথমিক শারীরিক সমস্যা ঘরে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, ফেনীর সীমানাবর্তী অন্যান্য জেলা হতে রোগীর একটা চাপ এখানে রয়েছে। ফলে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩০ বেডের স্থলে ১৫০ জন রোগীর সেবায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে সর্বোচ্চ ১২০ জন রোগী এখানে ভর্তি ছিল। আজ ২৯ জন রোগী আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে। এরমধ্যে ৮জন কোভিড-১৯ পজিটিভ।

তত্ত্বাবধায়ক জানান, গত একমাসে আইসোলেশনে রোগীর সংখ্যা ২৫ হতে ৪০ এর মধ্যে ওঠানামা করছে। তাই আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৫০শয্যায় নামিয়ে আনা হবে। প্রয়োজন হলে পরে বাড়ানো যাবে।
তিনি জানান, আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের টিম কন্ট্রোল রুম হতে কোভিড সংক্রান্ত সবধরনের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করছে।

হাসপাতালে করোনা রোগীর সেবা বিষয়ে তিনি বলেন, ৪০টি বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সেবা রয়েছে। ম্যানুফোল্ড অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে ১০০টি এবং ২৬০টি বেডসাইড সিলিন্ডার রয়েছে।

তিনি জানান, ২১টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর রয়েছে। এ সংযুক্তির ফলে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা অনেক সহজ হয়েছে। এছাড়া ৩টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা রয়েছে। এ মুহূর্তে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক জরুরী। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শীঘ্রই এর কাজ শুরু হবে।

Sharing is caring!