অনলাইন ডেস্ক->>

প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে হিসাবরক্ষকের কাজ করার জন্য রয়েছে কিছু পন্থা।

পেশাদার হিসাবরক্ষকের কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানিক যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই ধরনের কাজ শুরুর জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া যেতে পারে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের রুটিরুজি। অফিস বন্ধ থাকলেও কাজ যেন একেবারে বন্ধ না হয়ে যায় সেই ভাবনা থেকেই এল ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি বসে কাজ করার চিন্তা।

ফলে বাড়িতে বসে অনলাইনের মাধমে কাজ করিয়ে একই সঙ্গে কর্ম ও কর্মীকে বাঁচিয়ে রাখার পথ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে অনেকে একে বলছেন জীবন ও জীবিকার নতুন এক পরিভাষা।

তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কবে গিয়ে শেষ হবে তা নিয়ে সহজে শঙ্কা কাটছে না।

বিদেশের ‘জব পোর্টাল’ হরহামেশা ভার্চুয়াল বুককিপারের চাকরির সার্কুলার পাওয়া যায়। ঘরে বসে নারীদের অনেকে সেই চাকরিগুলো পার্টটাইম ভিত্তিতে করে থাকেন।

তারা ঘর সামলানোর পাশাপাশি ‘এন্ট্রিলেভেল অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান’ হিসেবে কাজ করে উপার্জন করছেন। এদেশেও এ ধরনের টেকনিশিয়ানের চাহিদা বাড়ছে। ফলে প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা ঘরে হিসাবরক্ষকের কাজ করতে পারেন।

হিসাবসংক্রান্ত বিষয়কে ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে বুককিপিং, অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং চাকরির পদগুলো। বিভিন্ন নামে এ চাকরির পদকে নামকরণ করা হলেও, এগুলোতে ক্যারিয়ার গড়ার যোগ্যতা ও কাজের ধরনের মধ্যে খুব বেশি মৌলিক পার্থক্য নেই।

বুককিপার: এন্ট্রিলেভেলে তারা প্রতিষ্ঠানের খতিয়ানের হিসাব রাখার দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, রশিদ যাচাই-বাছাই ও ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট পাঠানোর কাজগুলোও করে থাকেন। তারা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার রিপোর্ট তৈরি করে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপককে অবহিত করেন এবং ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যাংকের ডিপোজিট তৈরি করেন। বাড়তি কাজ হিসেবে তাদেরকে বেতনভুক্ত কর্মচারীদের তালিকা তৈরি, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা করা, চালান তৈরি এবং অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ ও দেখাশোনার মতো কাজগুলোও করতে হয়।

অ্যাকাউন্টিং: অ্যাকাউন্টিং বিষয়ক বিভাগের এন্ট্রিলেভেলে যারা কাজ করেন তারা সাধারণত বড় বড় কোম্পানিতে হিসাবসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করে থাকেন। তাদেরকে বিভিন্ন পদবীতে নামকরণ করা হয়। অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তাদের কাজের ধরনের মধ্যে পার্থক্য হয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে কাজে যোগদানকারীরা সাধারণত লেনদেনের তথ্য যেমন- ডেটা, টাইপ, অ্যাকাউন্টের মোট ও আয়ের বর্ধিত অংশের হিসাব-নিকাশ করেন।

এছাড়াও তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেখাশোনা করেন এবং সব লোনের টাকা ঠিক সময় পরিশোধ করা হচ্ছে কি-না, তার খোঁজ-খবর রাখেন। কাজের অভিজ্ঞতা বাড়লে তারা বিলের টাকা-পয়সার রশিদসংক্রান্ত বিষয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। আবার অ্যাকাউন্টের তথ্যাদি সঠিক ও সম্পূর্ণ আছে এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ডকুমেন্ট সংরক্ষণের কাজ চলছে, এমন বিষয়গুলো তারা নিশ্চিত করেন।

অডিটিং: অডিটিংয়ের প্রাথমিক কাজ মূলত প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত বিষয়, যেমন- অর্থের লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন প্রদানের তথ্য, চিঠিপত্র পোস্টিং ইত্যাদি বিষয়গুলো গাণিতিক ও পরিসংখ্যানিকভাবে ঠিক আছে কি-না, তা দেখাশোনা করা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড সংগ্রহে ও হিসাবে কোনো গড়মিল পেলে, অডিট কর্মকর্তা সেগুলো সংশোধন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের কাছে পাঠিয়ে দেন।

যোগ্যতা

এসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক পদে চাকরি পেতে হলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করে বিজনেস, অ্যাকাউন্টিং বা ফাইন্যান্স নিয়ে পড়তে হয়।

তবে এক্ষেত্রে যারা এন্ট্রিলেভেলে দ্রুত কাজ শুরু করে ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক তারা চাইলে কোনো অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান লেভেলের প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন অর্জন করতে পারেন। সঙ্গে প্রাথমিক কাজের অভিজ্ঞতা হয়ে গেলেও মন্দ হয় না।

হিসাব-নিকাশ বিষয়ের ওপর কোনো যোগ্যতা থাকলে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।

কম্পিউটারের স্প্রেডশিট এবং বুককিপিং সফটওয়্যারে নিয়ে জানা থাকলে আরও ভালো।

কম্পিউটারের মাধ্যমে রেকর্ড তৈরি ও ডেটা সংরক্ষণ করতে তা সাহায্য করবে।

Sharing is caring!