দাগনভূঞা প্রতিনিধি->>

দাগনভূঞায় মো. ছাবিদ (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরী হয়েছে। শিশুটির সৎ বাবা দাবি করছে মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছাবিদ’র মৃত্যু হয়েছে। তবে ছাবিদ’র স্বজনরা বলছে পরিকল্পিত ভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বুধবার সকালে পৌর শহরের রামানন্দপুর গ্রামের আসলাম ব্যাপারী বাড়ীর মিজানুর রহমানের ঘর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ছাবিদ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আবদুল আবু ছায়েদের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে বৃষ্টি একই উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আবদুল হকের ছেলে আবু ছায়েদের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের পরিবারে দুই সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টি সাথে ছায়েদের সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর দুই ছেলে নিয়ে বৃষ্টি একই এলাকার মো. ইউছুপ রিয়াদের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

দুই ছেলে ও স্বামী মো. ইউছুপ রিয়াদে নিয়ে দাগনভূঞার পৌর শহরের ইয়ারপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করত বৃষ্টি। মঙ্গলবার রাতে ছাবিদ কে নিয়ে বাসা থেকে ঘুরতে বের হয় সৎ বাবা রিয়াদ। এরপর ছেলে মোটর সাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়েছে মর্মে ছাবিদকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহত শিশু ছাবিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপতালে প্রেরণ করে চিকিৎসক। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছাবিদ মারা গেলে মরদেহ দাফনের জন্য ছাবিদের নানার বাড়ী নেয়া হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সকালে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এতি হত্যা না দূর্ঘটনা ঘটনাটি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

নিহতের দাদা আবদুল হক জানান, বৃষ্টি ও তার দ্বিতীয় স্বামী ইউছুপ তার নাতীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়েছে। তিনি নাতীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Sharing is caring!