অনলাইন ডেস্ক->>

অন্তঃসত্ত্বা রত্না বেগম (১৯) করোনা পজিটিভ ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলেসন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি। জন্মের এক দিন পর নবজাতকের করোনার নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এলেও চার দিন পর মায়ের ফল নেগেটিভ আসে। বর্তমানে প্রসূতি নেগেটিভ হলেও নবজাতক ছেলে এখনো করোনা পজিটিভ।

মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে প্রসূতি রত্না বেগম তাঁর করোনায় আক্রান্ত নবজাতককে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। রত্না ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের উজানিসার গ্রামের খাঁ বাড়ির ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী।

ফরহাদ মিয়া বলেন, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাঁর স্ত্রী গত ৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। গত ২০ আগস্ট তাঁর নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সন্তান প্রসবের সময় এগিয়ে এলে জেলা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের জন্য যোগাযোগ করেন তিনি।

কিন্তু করোনা পজিটিভ বলে কোনো হাসপাতালই স্ত্রীর অস্ত্রোপচার (সিজার) করাতে রাজি হয়নি। পরে স্ত্রীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিকিৎসক আবু সাঈদ অস্ত্রোপচার করাতে রাজি হন। শেষ পর্যন্ত করোনা আইসোলেশন ইউনিটে সিজারের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে গাইনি বিভাগের রেজিস্ট্রার চিকিৎসক কামরুন্নাহার শিখাকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। পরের দিন নমুনা পরীক্ষা করা হলে নবজাতকের শরীরে করোনা পজিটিভ আসে।

ওই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিকিৎসক আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, করোনা পজিটিভ বলে কেউই ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার করাতে রাজি হয়নি। পরিবারের লোকজন গত ২৫ আগস্ট তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরের দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ আগস্ট সিজারের মাধ্যমে ওই নারী ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

Sharing is caring!