আদালত প্রতিনিধি->>

ফেনীতে ব্যবসার নামে দেড় কোটি আত্নসাত মামলায় গ্রেপ্তার খরুদ্দিন শাহেদের (৩৩) জামিন দ্বিতীয় দফায় নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার ৩১ আগষ্ট ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে দ্বিতীয় দফায় জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর হয়। এর আগে ১৭ আগষ্ট দুপুরে শাহেদ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে শাহেদকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছিলো।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীক অংশীদার আলাউদ্দিন বাদি হয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে শাহেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাত ও প্রতারণা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় শাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর এলাকার ফরাজি বাড়ির আবুল কালাম আজাদের ছেলে ফখরুদ্দিন শাহেদ ২০১১ সালে ৫০ এর অধিক সংখ্যক সদস্য নিয়ে ইউনিটেক ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন নামে একটি সমিতি গঠন করে ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করে।পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডার বানানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে সমিতির সদস্যদের থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করে শাহেদ।২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর গোপনে ৩ জনের নামে ইউনিটেক ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্ট নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স নেয় শাহেদ।বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা প্রতিবাদ করায় পরবর্তীতে ঠিক করে নেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে আসে প্রতারক শাহেদ।একপর্যায়ে তিনজনের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে সু-কৌশলে প্রতিষ্ঠানের পুজি ও লভ্যাংশসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্নসাত করে শাহেদ।

টাকা আত্নসাতের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সদস্যরা চাপ প্রয়োগ করায় শাহেদ চক্রের উপস্থিতিতে ফেনীতে ২০১৮ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।ওইদিন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ টি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প করে সকলের পাওনা পরিশোধ করে দেয়ার কথা থাকলেও আত্নগোপনে চলে যায় শাহেদ।এ নিয়ে মধ্যম চাঁড়িপুর সালিশ কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মানিকের নিকট অভিযোগ দেন আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন পাওনাদার।২০১৯ সালের ২০ জুলাই শাহেদের পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক হয়।এতে শাহেদের কাছে ভুক্তভোগী আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডারগনের চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাবে বলে সিদ্ধান্ত হয় এবং এই মর্মে তাদেরকে ৩টি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সালিশনামাও প্রদান করা হয়। কিন্তু পাওনা টাকা পরিশোধ না করে ভুক্তভোগী আলাউদ্দিনসহ কয়েকজনের জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৬ মার্চ ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে শাহেদ।

গ্রেপ্তার খরুদ্দিন শাহেদ স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত বলে ব্যবসায়ীক অংশীদাররা দাবি করেছে।

Sharing is caring!