বিশেষ প্রতিনিধি->>

সোনাগাজীর এক সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আব্দুর রহমান মানিক ওরফে ভিল্লা মানিক গ্রেপ্তারের ১২ বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছে। সোমবার রাতে ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পায় হত্যা, ডাকাতিসহ ৫টি মামলার আসামী তৎকালীন বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান মানিক ওরফে ভিল্লা মানিক। সে চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ভুঞাবাজার সংলগ্ন আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।

ফেনী জেলা কারাগারের জেলার শাহাদাত হোসেন জানায়, সোমবার বিকালে জমিনের কাগজপত্র আদালত থেকে কারাগারে আসে। এসময় হাজতি আব্দুর রহমান মানিকের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু কারাগারে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় আব্দুর রহমান মানিককে জামিন প্রাদন করে কারাগার থেকে আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সোনাগাজী মডেল থানা সূত্র জানায়, সোনাগাজীর উপকূলীয় অঞ্চলের একময়ের ত্রাস ছিলেন আব্দুর রহমান মানিক ওরফে ভিল্লা মানিক। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আব্দুর রহমান মানিক উপজেলা যুবদল নেতা ইমাম বল্টরকে হত্যা করে লাশ গুম ও যুবদল নেতা জসিমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে বহু চুরি ডাকাতিসহ আওয়ামীলীগ কর্মী কালাম মাঝির একপা কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালে ডাকাতির সময় তাকে উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের আহসানের দোকান এলাকা থেকে প্রয়াত বিএনপি নেতা সন্দিপি মানিক ও যুবদল নেতা মাসুদ গ্রামবাসীর সহায়তায় অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটকের সময় এলাকাবাসী তাকে গনপিটুনী দিলে সে গুরতর আহত হয়।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু জানান, মামলার বাদি সোনাগাজী উপজেলার পালগিরি গ্রামের জসিম উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা আক্তার রেখা অভিযোগ করেন, আসামী আব্দুর রহমান মানিক সহ ১১ জন আসামী বাদির স্বামী জসিম উদ্দিনকে বিগত ২০০৮ সালের ২৬ মে সন্ধ্যা ৭টার সময় সকলে মিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। ২০০৮ সালের ২২ আগষ্ট সোনাগাজী থানার পুলিশ (সোনাগাজী থানার মামলা নং ১৪, জিআর নম্বর ১১৫/২০০৮ তারিখ ১৭/০৭/২০০৮ ধারা ১৪৩/৩৬৪/৩০২/৩৪ ধারা) মামলার এজাহার নামীয় আসামী হিসেবে আব্দুর রহমান মানিককে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২৩ আগষ্ট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

সোনাগাজী থানা পুলিশ বিগত ২০০৯ সালের ২৬ আগষ্ট আসামী মানিক সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি দায়রা মামলা নং ৩৩৬/২০১১ হিসেবে ফেনীর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে এখনও বিচারাধীন আছে। এই মামলায় এই পর্যন্ত ৮ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। ২০১৮ সাল থেকে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী থানার সাবেক এসআই মো. মেজবাহ উদ্দিন, এসআই মো. আব্দুল ওহাব ও এসআই দুলাল চন্দ্র ভৌমিকের স্বাক্ষীর জন্য আদালতে দিন ধার্য্য আছে।

বিগত ২০১৯ সালের ৮ জুলাই এই মামলায় আদালত, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের, মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাগন আজ পর্যন্ত আদালতে হাজির না হওয়ায় মামলাটির বিচার নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।

আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু আরো জানান, ২০১৮ সালের ২০ জুলাই মানিকের স্ত্রী ও তার ছেলে, মেয়েরা ‘সাজু এন্ড এসোসিয়েটস’ কার্য্যালয়ে এলে আমরা এই মামলার দায়িত্ব নিয়ে আসামীর জামিনের জন্য সর্বোচ্চ আইনী প্রচেস্টা চালাই। আমাদের সর্বাত্বক প্রচেস্টার ফলে ২০২০ সালের ২৭ আগষ্ট ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই মামলায় আসামি আব্দুর রহমান মানিককে জামিন দেয়ার পর আজ ১২ বছর ১০ দিন পর সে ফেনী জেলা কারাগার জামিনে মুক্ত হলেন। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অপর দুইটি মামলায় ও তিনি খালাশ পেয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, আদর্শগ্রামে যুবলীগ নেতা বেলাল ও কালামকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় আসার সে মামলা সরকার প্রত্যাহার করে।

এক যুগ পর জামিন পাওয়া আব্দুর রহমান মানিক জানান, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। গ্রেপ্তারের সময় তিনি চরচান্দিায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ এত বছর কারাবরণ করেছেন।

সোনাগাজী পৌরসভার এক কাউন্সিলর (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ও আওয়ামী লীগ নেতা জানান, আব্দুর রহমান মানিক ওরফে ভিল্লা মানিক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে প্রকাশ্যে খুন করে হাতিয়ারে লেগে থাকা রক্ত জিভ দিয়ে চেটে শ্বাদ নিতো। হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে উল্লাস করেতা। তৎকালীন সময়ে তার ত্রাসের রাজ্যতে এলাকাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত ছিলো। এমন একজন সন্ত্রাসী জামিন পাওয়ায় এলাকাবাসী আতংকের মধ্যে রয়েছে।

Sharing is caring!