শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে নতুন করে আরো ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন ১০ জন সহ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন সিভিল সার্জনসহ ৩৭ জন। সোমবার পর্যন্ত জেলায় ১৪১২ জন সুস্থ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন দিগন্ত।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সোমবার নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরর পরীক্ষাগার থেকে ৬৬ জনের প্রতিবেদন এসেছে। এতে নতুন করে শনাক্ত হন ১০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ জন, দাগনভূঞায় ২ জন, ছাগলনাইয়ায় ২ জন ও ফুলগাজীতে ২ জন রয়েছে।।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। শনাক্তের ১৩৭ তম দিনে এসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮০ জন। এদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৫৯২ জন, দাগনভূঞায় ৩৭৩ জন, সোনাগাজীতে ২৪৭ জন, ছাগলনাইয়ায় ২০০ জন, পরশুরামে ১৩২ জন, ফুলগাজীতে ১১২ জন ও ফেনীর বাইরের জেলার ২৩ জন রোগী রয়েছে।

শনিবার পর্যন্ত ৮ হাজার ৫০৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৮ হাজার ২১৭ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত ৭ জন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অপর আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফেনীতে সুস্থতার হার প্রায় ৮১.৮০শতাংশ। মোট আক্রান্তের তিনভাগের দুই তৃতীয়াংশের বেশি রোগীই সুস্থ হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ৩৭ জন মারা গেছেন। মৃত্যুর হার প্রায় ২শতাংশ।

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় সিভিল সার্জনসহ ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন সোনাগাজীর, ১০ জন ফেনী সদর’র, ৭ জন দাগনভূঞা, ৪ জন ছাগলনাইয়া ও ৪ জন পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা।

তবে ফেনীতে আক্রান্ত অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে যেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেলেও মৃতব্যক্তিদের সংখ্যা ফেনীর স্বাস্থ্য বিভাগে তালিকায় যোগ হয়নি।

প্রসঙ্গত, ফেনীতে কোভিড-১৯ শনাক্ত’র চার মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ছাড়ালো ১ হাজার ৫শ অতিক্রম করলো। সংক্রমিতের সংখ্যা ৫শ ছাড়াতে সময় লাগে ৭৬ দিন। পরের ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে সময় লাগে ২৬ দিন। আর পরবর্তী ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে ৩৫ দিন সময় লাগে।

Sharing is caring!