শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে নতুন করে ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন ৬ জন সহ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৪৬ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন সিভিল সার্জনসহ ৩১ জন। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ৯২০ জন সুস্থ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নবাগত সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন দিগন্ত।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরর পরীক্ষাগার থেকে ৩৭ জনের প্রতিবেদন এসেছে। এতে নতুন করে শনাক্ত হন ৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ফেনী সদরে ২ জন, দাগনভূঞায় ২ জন, ও ছাগলনাইয়ায় ২ জন রয়েছেন।

মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ৭০৫৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৮৮৯ জনের প্রতিবেদন পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এখনও নমুনা প্রতিবেদনের ফল অপেক্ষমান রয়েছে ৮৭ জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। শনাক্তের ১১১ তম দিনে এসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৪০ জন। এদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৪৮২ জন, দাগনভূঞায় ২৮৩ জন, সোনাগাজীতে ২০৪ জন, ছাগলনাইয়ায় ১৫৭ জন, পরশুরামে ১০৮ জন, ফুলগাজীতে ৯০ জন ও ফেনীর বাইরের জেলার ২২ জন রোগী রয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত ২৮ জন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। অপর আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় সিভিল সার্জনসহ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১১ জন সোনাগাজীর, ৮ জন ফেনী সদর’র, ৬ জন দাগনভূঞা, ৪ জন ছাগলনাইয়া ও ২ জন পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা।

তবে ফেনীতে আক্রান্ত অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে যেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেলেও মৃতব্যক্তিদের সংখ্যা ফেনীর স্বাস্থ্য বিভাগে তালিকায় যোগ হয়নি।

Sharing is caring!