অনলাইন ডেস্ক->>

ওষুধ তৈরির কাজে হাত দিয়েছে ক্যামেরা তৈরির জন্য সুপরিচিত মার্কিন ব্র্যান্ড কোডাক। এ কাজের জন্য মার্কিন সরকারের কাছ থেকে ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মূলত করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করবে এমন ওষুধের উপাদান তৈরি করবে কোডাক। প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দেওয়ার পর মার্কিন সরকার জানিয়েছে, চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যাপারে বিদেশী নির্ভরশীলতা কমাতে চান তারা। মঙ্গলবারের ঘোষণার পর কোডাকের শেয়ার দর ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে উঠে এসেছে বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে।

ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো করোনাভাইরাস প্রতিষেধক তৈরিতে দিন-রাত কাজ করছে। “প্রধান ওষুধ উপাদান তৈরি করে আমেরিকার স্বনির্ভরতা দৃঢ় করার একটি অংশ হিসেবে কাজ করতে পেরে গর্বিত কোডাক। নিজ নাগরিকদের নিরাপদে রাখতে হবে আমাদের।” – বলেছেন কোডাকের নির্বাহী চেয়ারম্যান জিম কন্টিনেনজা।

কোডাক ফার্মাসিটিউক্যালসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কন্টিনেনজা জানিয়েছেন, বড় মাপের উৎপাদন পর্যন্ত পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে।

হোয়াইট হাউস মুখপাত্র পিটার নাভেরো বলেছেন, “আমরা যদি বৈশ্বিক মহামারী থেকে কিছু শিখে থাকি, তা হলো নিজেদের প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য বিদেশী সরবরাহ চেইনের উপর আমেরিকানরা মারত্মকভাবে নির্ভরশীল।”

কোডাকের সঙ্গে চুক্তিটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প “মার্কিন ফার্মাসিটিউক্যাল শিল্প ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

আলোকচিত্রের ব্যবসা থেকে ওষুধ নির্মাণে আসার দলে কোডাক প্রথম প্রতিষ্ঠান নয়। এর আগে জাপানের ফুজিফিল্ম করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রতিষেধক তৈরির কাজে হাত দিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই নিজেদের ওষুধ মানব শরীরে পরীক্ষা করবে প্রতিষ্ঠানটি।

জর্জ ইস্টম্যান ১৮৮৮ সালে কোডাক প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বিখ্যাত একটি ক্যামেরা হলো ‘ব্রাউনি বক্স’। এ ক্যামেরার মধ্য দিয়েই আলোকচিত্র শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাম লেখায় প্রতিষ্ঠানটি। পরে ১৯৯০-এর দশকে এসে ডিজিটাল বাস্তবতার মুখে আর্থিকভাবে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে।

পরে ২০১২ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রের চ্যাপ্টার ১১ দেউলিয়া সুরক্ষায় নিজেদের নাম লেখায় কোডাক।

এতোদিন নিজেদের ব্যবসা প্রিন্টিং ও পেশাদার অন্যান্য সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি, স্বল্প পরিসরে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ও ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরাও বানিয়েছে কোডাক।

এক সময়ের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কোডাকে এক লাখ ৪৫ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করলেও, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মী সংখ্যা পাঁচ হাজারের ঘরে।

Sharing is caring!