নিজস্ব প্রতিনিধি->>
করোনাভাইরাসে ফেনীতে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ৫৫ জনের মধ্যে রয়েছে চেয়ারম্যান ও পুলিশ সদস্য। নতুন ৫৫ জনকে নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৬৬ জন। এর মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ১০৫ জন। শনিবার দুপুরে এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে ১৫৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এদের মধ্যে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৫৫ জন। নতুন শনাক্তকৃতদের মধ্যে পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ভুট্টো, তার ইউনিয়নের তিনজন ইউপি সদস্য, ৪ পুলিশ সদস্য, স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সোনাগাজীতে ২৬ জন, সদর উপজেলায় ২০, পরশুরামে ৮ জন ও ছাগলনাইয়ায় একজন রয়েছেন। এছাড়া পূর্বের আক্রান্ত দু’জন দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায়ও পজেটিভ এসেছে।

ফেনীতে নতুন শনাক্ত ২০ জনের মধ্যে তিনজন সোনাগাজীর ও একজন ছাগলনাইয়ার বাসিন্দা। তারা ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নমুনা দিয়ে শনাক্ত হয়েছেন।

পরশুরাম উপজেলা নতুন আক্রান্তদের মধ্যে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তিনসদস্য ছাড়াও পরশুরাম থানার একজন পুলিশ সদস্য (পুলিশের এএসআই), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন সেবিকা ও একজন স্কুল ছাত্র রয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল খালেক মামুন জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত ১৮৬টি নমুনা সংগ্রহ করে ২৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন সুস্থ্য হয়েছেন।

সোনাগাজী উপজেলায় ২৬ জনের মধ্যে একজন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, তিনজন পুলিশ সদস্য, একজন স্বাস্থ্য কর্মী, একজন পরিসংখ্যানবিদ রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সোনাগাজী পৌরসভা এলাকার ৫ জন, মতিগঞ্জ ইউনিয়নে ৭ জন, নবাবপুর ইউনিয়নে ২ জন, আমিরাবাদ ইউনিয়নে ২ জন ও চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিন চরসাহাভিকারী এলাকায় স্কুল শিক্ষক সহ তার পরিবারের ৪ জন রয়েছেন।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎপল দাশ জানান, সোনাগাজীতে নতুন করে ২৬জন শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে সোনাগাজীতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮১ জন।

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন জানান, ছাগলনাইয়ায় নতুন আক্রান্ত একজনের বাড়ি শুভপুর ইউনিয়নে। এনিয়ে ছাগলনাইয়ায় ৬১ জন শনাক্ত হয়েছে।

ফেনী স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় ৩২০৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগার জন্য নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজে, চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়।

এদের মধ্যে ২৬৮০ জনের প্রতিবেদন পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলীসহ ৪৬৬ জনের পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছে। বর্তমানে ১৩ জন করোনা রোগী ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। অপর আক্রান্তরা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ১০ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

জেলায় মোট কোভিড আক্রান্ত ৪৬৬ জনের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১৭৪ জন, দাগনভূঞা ১০৮ জন, সোনাগাজীতে ৮১ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬২ জন, পরশুরামে ২৪ জন ও ফুলগাজীতে ৯ জন। এ ছাড়া পাশের চট্টগ্রাম, মিরসরাই, চৌদ্দগ্রাম ও সেনবাগের ৮ জন। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা দিয়ে তারা শনাক্ত হওয়ার প্রতিবেদন পেয়েছে।

Sharing is caring!