নিজস্ব প্রতিনিধি->>
করোনাভাইরাসে ফেনীতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ নতুন করে আরো ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৭২। বৃহস্পতিবার সকালে সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিভিল সার্জন জানান, সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ২৫ জন। নতুন শনাক্তকৃতদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৮ জন, সোনাগাজীতে ৯ জন, ছাগলনাইয়া ৪ জন ও দাগনভুইয়ায় ৪ জন রয়েছে।

সদর উপজেলায় শনাক্ত ৮ জনের মধ্যে লকডাউনকৃত এলাকা শান্তি কোম্পানী সড়কে ২ জন রয়েছে। এছাড়া শহরের পলিটেকনিক, উত্তর চাঁড়িপুর, তুলাবাড়িয়া এলাকায় তিনজন রয়েছে। অপরদিকে সদর উপজেলার লেমুয়া এলাকার এক বাসিন্দা ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরো একজন।
এদিকে সোনাগাজী উপজেলার শনাক্তকৃত ৯ জনের মধ্যে ৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। অপর ৪ জন পৌর শহরের বাসিন্দা। ছাগলনাইয়ায় আক্রান্ত ৪ জনের মধ্যে উপজেলার পশ্চিম ছাগলনাইয়া, বাঁশপাড়া, রাধানগর ও জয়নগর এলাকার একজন করে রয়েছেন। দাগনভূঞায় শনাক্ত চার জনের মধ্যে পৌরসভায় ২ জন, ইয়াকুবপুরে ১ জন ও রাজাপুরে ১ জন রয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, গত ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। বুধবার পর্যন্ত জেলায় ৩০৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগার জন্য নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজে, চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়।

এদের মধ্যে ২২৫২ জনের প্রতিবেদন পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলীসহ ৩৭২ জনের পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ৭২ জন। আক্রান্ত সাতজনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তরা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড ও হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনও নমুনা প্রতিবেদনের ফল অপেক্ষমান রয়েছে ০০০/৭৭৮ জন।

করোনা শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদরের ১৪২ জন, দাগভূঞায় ৯৮ জন, সোনাগাজীতে ৫৭ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪৪ জন, ফুলগাজীতে ১০ জন ও পরশুরামে ১৪ জন। অপর ৭ জন পাশ্ববর্তী চট্টগ্রাম, মিরসরাই, চৌদ্দগ্রাম ও সেনবাগের বাসিন্দা। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা দিয়ে তারা আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবেদন পেয়েছে।

সুস্থ্য হওয়া ৭২ জনের মধ্যে সদরে ২৫ জন, ছাগলনাইয়ায় ১৩ জন, দাগনভূঞায় ১০ জন, সোনাগাজীতে ৮ জন, পরশুরামে ৭ জন ও ফুলগাজীতে ৫ জন।

Sharing is caring!