নিজস্ব প্রতিনিধি->>
করোনাভাইরাসে দাগনভূইয়া নতুন করে আরো চার জন আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার রাতে নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে ৪ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে বলে সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন। এনিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে ১৯৩ জন আক্রান্তের তথ্য দিল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান, বুধবার রাতে নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে ফেনী জেলার ৩১ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। নতুন আক্রান্ত চার জনের মধ্যে পুরুষ এক ও মহিলা তিন জন। দাগনভূইয়া উপজেলায় আক্রান্ত চার জনের বয়স ৪ বছর থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। বুধবার জেলার ৬ উপজেলায় নতুন করে ১৭২ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুবাইয়েত বিন করিম জানান, দাগনভূইয়া উপজেলায় আক্রান্ত চার জনের তিনজনই একই পরিবারে। মা, মেয়ে ও চার বছরের নাতনি। তারা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা। পূর্বের আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আশায় এরা তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। ওই পরিবারের আক্রান্ত আরো দুইজন হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত অপর জন একটি ঔষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভ। তিনি দাগনভূঞা পৌর শহরের বাসিন্দা।

ডা. রুবাইয়াত বিন করিম আরো জানান, বুধবার রাত পর্যন্ত দাগনভূঞায় ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। করোনা শনাক্তের জন্য ৫৯৫ জনের নমুনা পাঠানো হয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজের পরীক্ষারে। এদের মধ্যে ৪৪৬ জনের প্রতিবেদন পেয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সরফুদ্দিন আহমেদ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। বুধবার পর্যন্ত জেলায় ২০৬৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগার জন্য নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজে, চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। এদের মধ্যে ১৬৪৬ জনের প্রতিবেদন পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, প্রকৌশলীসহ ১৯৩ জনের পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে ফিরেছেন ৬২ জন। বর্তমানে আক্রান্ত ১২৩ জন হাসপাতাল ও বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডা. মো. সরফুদ্দিন আহমেদ আরো জানান, আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৭১ জন, দাগনভুঞা উপজেলায় ৫৭ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ২৪ জন, সোনাগাজী উপজেলায় ২২ জন, পরশুরাম উপজেলায় ৭ জন ও ফুলগাজী উপজেলায় ৭ জন রয়েছে। অপর ৫ জন পাশ্ববর্তী চট্টগ্রাম, মিরসরাই্, চৌদ্দগ্রাম ও সেনবাগের বাসিন্দা। তারা সকলে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে।

ডা. মো. সরফুদ্দিন আহমেদ আরো জানান, ফেনী জেলায় করোনা আক্রান্ত মোট ৬২ জন সুস্থ রোগী সুস্থ্য হয়েছেন। এদের মধ্যে ফেনী সদর ২০ জন, ছাগলনাইয়া ১৩ জন, সোনাগাজী ৮ জন, দাগনভূইয়া ৯ জন, পরশুরাম ৬ জন ও ফুলগাজী ৪ জন।

Sharing is caring!