বিশেষ প্রতিনিধি->>
করোনাভাইরাসের এই সময়ে একই ব্যক্তি একাধিক জায়গায় করোনা স্যাম্পল প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যাক্তি আইন অমান্য করলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সিভিল সার্জন তার আইডিতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন। সিভিল সার্জন জানান-

‘‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে একই ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় করোনা স্যাম্পল প্রদান করছেন।এমনকি করোনা পজিটিভ রোগী লকডাউন ভেঙে পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন জায়গায় স্যাম্পল দিয়েছেন। তাদের এইরুপ আচরণ সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর সাথে সাংঘর্ষিক। এমতাবস্থায় সকলকে স্যাম্পল প্রদানের নিন্মোক্ত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে বলা হলঃ

১.একই ব্যাক্তি বিভিন্ন জায়গায় স্যাম্পল প্রদান করতে পারবেন না।প্রদান করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২. চিকিৎসকগণ কর্তৃক নির্ধারিত ব্যাক্তি (চিকিৎসকের সন্দেহ হলে) নমুনা সংগ্রহের জন্য বিবেচিত হবেন।

৩. চিকিৎসক কর্তৃক নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ নমুনা দিতে পারবে না।

৪. নমুনা প্রদানকারী ব্যক্তির নমুনা দেয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই সেইক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এর নির্দেশনা অনুযায়ী নমুনা প্রদান করবেন।

৫.নমুনা প্রদানকারীর নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার সঠিক হতে হবে।

৬. নমুনা প্রদানকারী ব্যাক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

৭. নমুনা প্রদানকারী ব্যক্তিকে রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত হোম কোয়ারেনটাইন মেনে চলতে হবে।

৮.হাসপাতাল কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে স্যাম্পল প্রদান করতে হবে।

৯.করোনা পজিটিভ রোগীর পরবর্তী নমুনা নির্ধারিত সময়ে তার বাসস্থানে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মী কর্তৃক সংগ্রহ করা হবে।করোনা আক্রান্ত রোগী কোনভাবেই লকডাউন ভেঙে বাইরে আসতে পারবেন না।

১০. সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যাক্তি

(ক) মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,ক্ষমতা অর্পণ অনুযায়ী)তাহার উপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, এবং

(খ) সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার(উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,ক্ষমতা অর্পণ অনুযায়ী) কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন,তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

নির্দেশক্রমে
সিভিল সার্জন ফেনী’’

সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি একাধিক জায়গায় নমুনা দিলে কিংবা আইন অমান্য করলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি কঠোর ভাবে নজরদারি করছে।

Sharing is caring!