সোনাগাজী প্রতিনিধি->>
‘সুপার সাইক্লোন’ আম্পান বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোসহ বেশিরভাগ এলাকায় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। উপকূলীয় দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে ফেনী জেলা প্রশাসন।

ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, ‘ইতোমধ্যে ফেনীর সোনাগাজীসহ উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন ও গবাদিপশু সরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এলেই আমরা কাজ শুরু করবো।’

উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব জানান ‘আম্পান’ সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছ। উপজেলার ৫৬টি সাইক্লোন শেল্টারের ব্যবহার উপযোগী ৫২টিতে আশ্রয়দানের প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে উপকূলীয় চার ইউনিয়ন চর দরবেশ, চর চান্দিয়া, সদর ও আমিরাবাদে ২৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও ৩৩টি স্কুলঘর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সিপিপির টিম সব ইউনিয়নে প্রস্তুত রয়েছে। ১১টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ১০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সব মিলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যাবে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সোনাগাজী পৌর এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রেও মানুষজন সরিয়ে আনতে হতে পারে। তবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দাগনভূঞা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে উপজেলা রেসপন্স কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটিকে দ্রুত সভা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে ফেনীতে ৯০ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তোলা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ ধান দুর্যোগের পূর্বে ঘরে তোলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

আবহাওয়া অফিস বলছে, ২২ মে অমাবস্যা থাকায় এর প্রভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে জোয়ার। ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

Sharing is caring!