বিশেষ প্রতিনিধি->>
করোনা ভাইরাসে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যন ও তার পরিবারের ৪ সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার রাতে ছাগলনাইয়ায় ৬ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জেলা স্বাস্খ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি জানান, ছাগলনাইয়ায় নতুন করে আক্রান্ত ৬ জনের মধ্যে একজন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে, তার ভাতিজী আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক সন্তানের বয়স ৭ বছর। তবে ভাইস চেয়ারম্যানের অপর একটি ছেলের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। অপর একজন আক্রান্ত নারীর বাড়ি ঘোপার ইউনিয়নে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক জনপ্রতিনিধি জানান, আক্রান্ত ওই জনপ্রতিনিধি সম্প্রতি ঢাকা থেকে স্ব-পরিবারে ছাগলনাইয়ায় এসেছেন। পরিবার ঢাকা থাকলেও তারা বাড়িতে আসার পর গত ৬ মে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে ফেরার পর তিনি নিয়মিত উপজেলা পরিষদে সভা ও অন্যান্য সকল কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে আক্রান্ত ওই জনপ্রতিনিধির সংস্পর্শে অনেকেই এসেছেন। তাদের দ্রুত করোনা পরীক্ষা কারার প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

এর আগে দাগনভূইয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলো। তিনি হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, বুধবার মধ্যরাতে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের (বিআইটিআইডি/BITID) ল্যাব ও ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু/CVASU) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ফেনীতে সাত জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন ছাগলনাইয়া উপজেলার ও একজন ফেনী সদর উপজেলার বাসিন্দা। আক্রান্ত সাত জনের মধ্যে পাঁচ জন মহিলা ও দুইজন পুরুষ। তাদের বয়স ৭ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ফেনীতে আক্রান্ত একজন নারী ফেনী জেনারেল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী।
তিনি আরো জানান, বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত জেলায় ৮৮৯ জনের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৫৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
প্রসঙ্গত, জেলায় করোনাভাইরাসে দুই চিকিৎসক, দুই জনপ্রতিনিধি, এক সরকারি কর্মকর্তা, একজন পুলিশ সহ ২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১০ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৮ জন, দাগনভূঞা উপজেলায় ৫ জন, ফুলগাজী উপজেলায় ২ জন ও সোনাগাজী উপজেলায় ১ জন। জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন তিনজন। অবস্থর অবনতি হওয়ায় একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। অপর আক্রান্তরা আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

Sharing is caring!