সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কাঁদলেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন।

বুধবার সোনাগাজী উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবুল বসারের সাথে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কাঁদেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমি নাকি আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে জয়ী করতে পারিনি। অথচ, আমার সাথে নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ৪০ বছরের পারিবারিক সম্পর্ক। যারা সোনাগাজীর রাজনীতির ইতিহাস জানে না তারা আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে। তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমি নাকি চেয়ারম্যানকে হারিয়েছি, আমি কী করে এমপি নির্বাচন করব।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের তুখোর নেতা ও ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ফেনীর ইতিহাসে খাজা আহাম্মদ নবাবপুরের নাম লেখা থাকবে। আমি আপনাদের কাছে বিচার চাইলাম। আমি রাজনীতি করব এই জনপ্রতিনিধি হওয়ার রাজনীতি আমি আর করব না। ফেনী জেলার একটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী দাঁড়িয়েছে জয় লাভ করেছে, এর দায়-দায়িত্ব আমাকে নিতে হয়েছে। দেলোয়ার সাহেব কী কারণে ফেল করেছে তা আপনারা সবাই জানেন।

তিনি বলেন, আমি যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করতে গেলাম, তিনি তখন আমাকে বললেন, তোমার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফেল করেছে এখানেই তো তোমার সব শেষ। আপনাদের ভালোবাসায় আমি রাজনীতিতে এসেছি, এখন যদি আমার রাজনীতি শেষ হয়ে যায় আমাকে মাফ করে ক্ষমা করে দিবেন।

নিজের এই বক্তব্য দেওয়ার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। পাশে থাকা নেতাকর্মীদের টিস্যু দিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের এই নেতাকে।

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী) ১১ জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বায়রার সভাপতি আবুল বাশারকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।