বিশেষ প্রতিনিধি->>
ফেনীর বাজার গুলোতে তিন দিন আগেও যেই বেগুন ৩০ টাকা বিক্রী হয়েছে সেই বেগুন রোজা শুরু প্রথম দিন ৮০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন বেগুনের চালান কম থাকায় বেড়েছে দাম। অপরদিকে ক্রেতারা বলছেন রোজায় বেশি মুনাফা লাভের আশায় বাজারে বেগুন কম তুলে কৃত্তিম দাম বাড়িয়েছে। এজন্য অনেক ক্রেতা বেগুন না কিনে বাড়ি ফিরেছে।
রোজা শুরুর প্রথম দিন শনিবার শহরের বড় বাজার, রেলগেইট পৌর হর্কাস মার্কেট, শহরের মুক্ত বাজার, সিও অফিস কাঁকা বাজার ঘুরে দেখা যায় সেরা মানের লম্বা বেগুনের দাম প্রতি কেজি ৮০ টাকা। গত কয়েক দিনের বাজারের তুলনায় তিনগুন বেশি। শসা, কাঁচা মরিচ ও লেবুর দামও ক্রেতার নাগালের ভেতরেই।

অন্যান্য বছর রোজার সময় সবজির বাজারে যা হয়নি, তা এবার হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে দোকানপাট বন্ধ। বসবে না ইফতারির পসরাও। সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে, তাই বাসাবাড়ির ইফতারেও থাকবে না জাঁকজমক আয়োজন। এতে ইফতারির বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমবে। আর চাহিদা কম থাকলে দাম বাড়বে কী করে!

বাজারে সবজির দাম কিছুটা কম বলে কি সাধারণ মানুষ খুব স্বস্তিতে আছে? উত্তর হলো, মোটেও না। কারণ, এ বছর চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম গত বছরের চেয়ে অনেকটাই বেশি। দাম বাড়লে এক কেজি বেগুন কিনতে মানুষের খরচ যতটুকু বাড়ত, তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে চাল-ডাল।

ফেনীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতাদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। রোজা শুরুর আগে গতকাল অনেক মানুষ ঘরের প্রয়োজনীয় কাঁচাবাজার সেরে ফেলেছেন। যদিও বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বালাই দেখা যায়নি।

শহরের বড় ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন ৬০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং লেবু আকারভেদে ২৫ থেকে ৪০ টাকা হালি দরে বিক্রি হয়েছে।

পৌর হর্কাস মার্কেটের বাজারের সবজি বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, সবজির দাম কিছুটা বাড়তি। কিছুদিন আগে ক্রেতা ছিল না। রোজার কারণে এখন ক্রেতা কিছুটা বেড়েছে। তাই সবজির দামও কিছুটা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে বেগুনের কেজি ৩০ টাকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত কয়েক বছরের বাজার চিত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রোজার বাজারে ছোলা ও চিনির দাম একটু বেশি বাড়ে। আর বেগুন, শসা ও কাঁচা মরিচের দাম প্রথম কয়েক দিন বেশি থাকে। এরপর কমে যায়। এবার কিন্তু চাল, ডাল ও মসলাজাতীয় পণ্যের দামই বেশি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। এর পরপরই বাজারে সবজি, ডিম ও মুরগির দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। উল্টো দিকে বাড়তে থাকে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুনের দাম। চাল-ডাল অবশ্য আগে থেকেই বাড়তি ছিল। এদিকে সরকার ছুটি আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যদিও কিছুটা শিথিলতা আসায় পণ্যবাহী যান চলাচল বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজি, মাছ ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।

বিপরীতে বাজারে চাহিদাও বেড়েছে। একে তো রোজা শুরু, অন্যদিকে মানুষ ঘরে যে পণ্যসামগ্রী কিনে রেখেছিল, তা শেষের পথে। ফলে এখন আবার বাজারমুখী হতে হচ্ছে। এটাই বাড়তি ভিড়ের কারণ। আবার সীমিত সময় দোকান খোলা থাকায় একসঙ্গে বেশি মানুষের ভিড় হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

Sharing is caring!