বিশেষ প্রতিনিধি->>

বিএনপি-জামায়াতের টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি সামনে রেখে ফেনীর সদর থানায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও তিনটি মামলা করা হয়েছে। এ তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় বাদী হয়েছে পুলিশ এবং একটি মামলার বাদী হয়েছেন একজন আওয়ামী লীগের কর্মী।

এ নিয়ে গত চার দিনে জেলায় বিএনপি–জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা করা হলো। এসব মামলার মধ্যে শুধু ফেনী সদর মডেল থানায় ৭টি মামলা এবং অপর পাঁচটি থানায় একটি করে পাঁচটি মামলা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে চার দিনে ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিএনপির টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতে নেতা-কর্মীরা নানা ধরনের নাশকতা ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিলেন। এসব ঘটনায় গত রোববার, সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার ফেনী সদর মডেল থানায় সাতটি, দাগনভূঞা থানা, সোনাগাজী থানা, ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া থানায় একটি করে মোট পাঁচটি মামলা করা হয়।

ফেনী থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ফেনী সদর মডেল থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে বিএনপির ৩১ জন নেতা–কর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া উপপরিদর্শক (এসআই) কোমল কুমার সাহা বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা করেছেন। তৃতীয় মামলাটির বাদী শহরের পূর্ব উকিলপড়ার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ। ওই মামলায় ৩৫ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে ফেনী সদর মডেল থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে, পরশুরাম থানা-পুলিশ ২ জনকে, ফুলগাজী থানা ২ জনকে, ছাগলনাইয়া থানা ২ জন এবং সোনাগাজী ও দাগনভূঞা থানা ১ জন করে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন মুঠোফোনে এসব মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে গায়েবি মামলা বলে দাবি করেন। তাঁরা বলেন, সরকার দিশেহারা হয়ে এখন গণগ্রেপ্তারের পথ বেছে নিয়েছে।

ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, জনগণের জানমাল রক্ষার স্বার্থেই দায়িত্ব পালন করেছে পুলিশ। ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত থাকলে পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না৷ তিনি জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।