নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীতে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে ফেনী ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে রোগীকে ফেনী ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ২৮ বছর বয়সী ওই যুবকের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন। আক্রান্ত রোগী ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পশ্চিম মধুগ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার মিরপুরে একটি মোবাইল কোম্পানীতে চাকুরী করেন।

সিভিল সার্জন জানান, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সে করে করোনা আক্রান্ত রোগীকে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মহিপাল ট্রমা সেন্টারে আনা হয়। পরে তাকে হাসপাতালের তৃতীয় তলার নির্ধারিত বেডে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা দেখে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান. করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিসিএস ৩৯ তম ব্যাচের ৬ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের সাথে নার্স-ওয়ার্ড বয় সহ ১০ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ফেনী শহরের মহিপালে অবস্থিত ট্রমা সেন্টারটি ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।৩০ শয্যা বিশিষ্ঠ আইসোলেশন হাসপতালটিতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা দিতে যোগ দিয়েছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য-কর্মীরা। শুক্রবার সকালে দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাতে সেন্টারটির চাবি তুলে দেন সিভিল সার্জন। আক্রান্ত রোগীকে ভর্তির মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্র জানায়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৩০ শয্যার মহিপালের ট্রমা সেন্টার ছাড়াও ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পাশে ৩৫ শয্যার একটি ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ করা হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলকান্দি হাসপাতালে ২০টি ও ৫ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫টি করে ২৫টি বিশেষ শয্যার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজজামান সভাপতি ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। ওই কমিটিতে ফেনী জেনালের হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ ইকবাল হোসেন ভূঞাকে প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ ওই যুবক ঢাকা থেকে ফেনীর ছাগলনাইয়া তার নিজ গ্রামে আসেন। সম্প্রতি তার জ্বর-শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ১৪ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি তে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ওই নমুনা পরীক্ষার ফল ‘পজেটিভ’ রিপোর্ট আসে।

Sharing is caring!