ঢাকা অফিস->>
দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আগামী সোমবারের মধ্যে আবারো চালু করা হবে ওএমএস এর ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচি। বিতরণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যসচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম।
এই কর্মসূচি ও প্রকৃত তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা আনতে স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা নেয়া এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবকিছু বন্ধ থাকার এ পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৩০ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকায় খোলাবাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
শহর ও শহরতলীতে ঘরে অবস্থানরত সাধারণ শ্রমজীবী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা, ভিক্ষুক, ভবঘুরেসহ কর্মহীনদের দেয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি চালু করার পর শহর গ্রাম, ধনী গরীবের পার্থক্য ভুলে সবাই চাল কিনতে ভিড় করেন। এরফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে পড়ে করোনা সংক্রমণ। এছাড়া, চাল বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি দেখা দেয়ায় গত ১৩ এপ্রিল হঠাৎ এ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

এবার নীতিমালা ও কর্মহীনদের তালিকা নির্ধারণ করে আবারও এই কর্মসূচি চালু করার কথা জানান খাদ্যসচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম।
খাদ্য সচিব বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি ঠেকাতে ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলেন, নীতিমালাটা নির্ধারণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা কামনা করেছিলাম, এরইমধ্যে আমরা সেটা পেয়ে গিয়েছি। আগামী সোমবারের মধ্যে সেটা চালু করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটা জেলায় যেসমস্ত ডিলার আছে তারা যদি অনিয়ম করেন তাহলে সেক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে।
এক্ষেত্রে, সরাসরি চাল বিতরণ না করে পদ্ধতি পরিবর্তনের পাশাপাশি স্বচ্ছতা আনতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এমএস মুশিদ বলেন, ১০ টাকায় দেই আর ২০ টাকায় দেই সেটা তো ফিজিক্যালি দিতে হবে তা তো নয়। আমার মনে হয় না যে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ছাড়া এটা ঠিকমত বিতরণ করা সম্ভব।
কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৫০ হাজার ২ ‘শ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুসারে পর্যায়ক্রমে এটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

Sharing is caring!