যেখানে করোনা মোকাবেলায় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিকসহ জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের লোকজন জীবনের মায়া ত্যাগ করে করোনা ভাইরাস ঝুকি মাথায় নিয়ে কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই এককাতারে দেশ ও দশের সেবায় রাস্তায় নেমে মানুষকে সচেতন করছে। বিভিন্ন ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সেখানে এ মহা বিপর্যয় মুহূর্তে অনেক চিকিৎসক সেবা না দিয়ে দিব্বি বসে আছেন ঘরে।অবশ্য তাদের মাথা ব্যথা নেই কারন তাদের বেতন ও ঔষধ কোম্পানীগুলোর মাসিক পার্সেল তাদের ঘরে পৌছে যায়। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে এইসময় যাদের বেশি প্রয়োজন তারাই আজ সামান্য পিপিই’র অজুহাতে গা ঢাকা দিয়েছেন। নিজেকে সুরক্ষিত করছেন। একটি পিপিই’র দাম কত ২/৩ হাজার টাকা..? কিন্তু পিপিই’র অভাবে সেবা না দেয়া এ কেমন যৌক্তিকতা।

একজন চিকিৎসক প্রতি রোগী থেকে ভিজিট, টেষ্ট কমিশনসহ বিভিন্ন ভাবে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে। কিন্তু পিপিই’র জন্য সরকার কিংবা ঔষধ কোম্পানীর দিকে তাদের কেন তাকিয়ে থাকতে হবে…? আমার জানা নেই।

জি টিভি ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ভাই তাঁর একটি ফেইসবুক পোষ্টে লিখেছেন , ‘এই মুহূর্তে কেউ ফোন করে যদি জিজ্ঞেস করে কেমন আছি তাহলে উত্তর দেই ‘টিকে আছি’। কিন্তু মনে হচ্ছে আর টিকে থাকা যাবেনা। যেভাবে হাসপাতালগুলো রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে, এতে করোনায় নয়, অন্য যেকোন রোগ হলে বিনা চিকিৎসাতেই মরে যেতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

কিছুদিন আগে ফেনী শহরের কাজীরবাগ এলাকার সোহাগ নামে এক লোক হঠাৎ জ্বর ও বমি সমস্যায় পড়েছেন। তখন তারা আতংকিত হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক না দেখেই বাসায় চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়।পরে বিষয়টি আমাকে জানালে, চিকিৎসকরা কেন রোগী দেখছেনা মর্মে বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসককে জানাই।

পরে শুনেছি ঐ ব্যক্তি সুস্থ হয়েছেন। তবে ঘরোয়া চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছে। সবশেষ বলতে চাই জাতির এ ক্লান্তিকর অবস্থায় যতটুকু পারেন সেবা দিন প্লিজ, সাহায্য করুন মন খুলে ।সত্যিকার মানববতার সেবায় এগিয়ে আসুন। মনে রাখবেন মৃত্যু সবার নিশ্চিত, শুধু সময়টা অনিশ্চিত।

লেখক-
মাইনুল রাসেল
ফেনী প্রতিনিধি- এসএটিভি
সাবেক সাধারণ সম্পাদক-ফেনী প্রেসক্লাব।

Sharing is caring!