শহর প্রতিনিধি->>
সোনাগাজীতে জেঠা শ্বশু‌রের পাশ‌বিকতার শিকার সেই নির্যাতিতা গৃহবধু আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া ইসলামের আদালতে তিনি ২২ ধারা জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে জেঠা শশুরের পাশবিকতার শিকার হয়ে গর্ভবতী, মামলা দিয়ে উল্টো জেল খাটা, সন্তান প্রসব, তিনমাস পাঁচদিন অপহৃত থাকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। আগামী ১৩ এপ্রিল পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালত সূত্র জানায়, নির্যাতিতা সেই গৃহবধুকে রবিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া ইসলামের আদালতে তোলা হয়। এসময় ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে গৃহবধু বলেন, ‘গত বছরের ১৮ জুন ঘরে অন্য কেউ না থাকায় আমাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন জেঠা শ্বশুর শফি উল্যাহ। পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারি আমি গর্ভবর্তী। এ ঘটনায় জেঠা শ্বশুর শফি উল্যাহকে আসামি করে গত ২২ নভেম্বর সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমি মামলা করি। মামলার পর হুম‌কির মু‌খে সদর উপজেলার এলাহিগঞ্জ এলাকার স্বপন নামের এক মামার বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করি।

এদিকে স্বপনের সাথে জেঠা শশুরের ছেলে রিয়াদের যোগসাজশে গত ২৬ নভেম্বর অভিযুক্ত শফি উল্যাহ ফেনীর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। এসময় ‘আমার থেকে স্বাক্ষর নেয়া একটি কাগজ আদালতে জমা দেয়া হয়। আদালত আসামীকে জামিন দিয়ে আমাকে ১৫ দিনের জন্য কারাগারে প্রেরণ করেন। এরপর কারাগার থেকে বের হলে স্বপন ও রিয়াদ জামিন করিয়েছে বলে দেবিপুর এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায়। দুইদিন পর ট্রাংক রোডের একটি হাসপাতালে নিয়ে তারা দুজনসহ আরও একজন মিলে আমাকে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে ও ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করলে সন্তান প্রসব হয়। পরবর্তীতে ওই বাসায় নিয়ে আটকে রাখে।’

এডভোকেট এম. শাহজাহান সাজু জানান, বিচারক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে নির্যাতিতাকে সোনাগাজী আমলী আদালতের বিচারক ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালতে প্রেরন করেন। পরে ভিকটিমকে আমার (এডভোকেট এম. শাহজাহান সাজু) জিম্মায় জামিন প্রদান করেন। একইসাথে আগামী ১৩ এপ্রিল পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, জেঠা শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করায় গত ৯ ডিসেম্বর ফেনীর আদালত পাড়া থেকে অপহরণের শিকার হন উপজেলার ছাড়াইকান্দি এলাকার ওমান প্রবাসীর স্ত্রী। গত ১৪ মার্চ সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের পূর্ব দেবীপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

Sharing is caring!