পরশুরাম প্রতিনিধি->>
পরশুরামে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানের চোখ তুলের নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এক শিক্ষক। অভিযুক্ত ফুলগাজী উপজেলার শ্রী চন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সহকারী শিক্ষা অফিসার। শনিবার সকালে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরশুরাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান।
লিখিত এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৯ জুন পশ্চিম সাহেব নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের। এসময় প্রধান শিক্ষক ইকবালকে অনুপস্থিত পেয়ে এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালকের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন। যার প্রেক্ষিত ওই বছরের ২৭ নভেম্বর তদন্ত হয়। তদন্তে ইকবাল হোসেন দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে চলতি বছরে ২৭ ফেব্রুয়ারি ফুলগাজী উপজেলার শ্রী চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়।

লিখিত অভিযোগে মিজানুর রহমান আরো বলেন, গত ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন পরশুরাম উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এসময় ইকবাল হোসেনকে শিক্ষা অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। পরবর্তীতে রাতে সহকারী শিক্ষা অফিসার পরশুরাম বাজারে গেলে তাঁকে একা পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল চোখ উঠিয়ে ফেলাসহ পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে বাজারের উপস্থিত লোকজন সহকারী শিক্ষা অফিসারকে রক্ষা করে।
মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০১৯ সালে ওই ঘটনার সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার না থাকায় আমি ওই বছর ফুলগাজী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পালন করি। অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন তাঁর শাস্তিমূলক বদলীর পেছনে আমার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে। এজন্য তিনি ক্ষুদ্ধ হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেনের বদলির বিষয়ে আমার কোন ভুমিকা নেই, এটি বিভাগীয় সিদ্ধান্ত।
লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৯১৮-১১২১৪১) একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরশুরাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!