ফুলগাজী প্রতিনিধি->>
ফুলগাজীতে এক গৃহকর্তী নারীকে (২৩) জোরপূর্বক ধর্ষন করেছে রসুল মিয়া (৬৫) নামের এক গৃহকর্তা। এ ঘটনাায় গৃহকর্তী স্থানীয় আমজাদ হাট ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর ধর্মপুর এলাকার (৪নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য আমিনুল করিম ওরফে খোকা মেম্বারের কাছে বিচার চেয়ে উল্টো হেনস্থার শিকার হয়েছেন। বিচার না করে ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়ন পরিষদ এ সদস্যের বিরুদ্ধে ।

ঘটনার বিষয়ে দায়েরকৃত মামলায় নির্যাতিত নারী বলেন, ‘তার বাবা দরিদ্র কৃষক হওয়ায় অভিযুক্ত রসূল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতো বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতো, তাতে রাজি না হওয়ায় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষন করে। বিষয়টি সামাজিক লোক-চক্ষুর ভয়ে গোপন রেখে দুই মাস পূর্বে তার বাড়ি থেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে আসে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারী সকালে গোয়াল ঘর থেকে গরু নিয়ে বাড়ির পশ্চিমে খালি জমিতে খুঁটি দিয়ে বাড়িতে আসার সময় রসূল মিয়া ডেকে নিয়ে বিয়ের দিন ঠিক করবে বলে পূনঃরায় ধর্ষন করে, এসময় চিৎকার করলে বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে।
পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল করিম ওরফে খোকা মেম্বারের কাছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী বিচার দিলে তিনি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মিমাংসার নামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আপোষ মিমাংসার নামে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও ১৫০ টাকার খালি স্ট্যাম্পে টিপ সই নেয়।’
নির্যাতিত গৃহকর্তী নারী আরো বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারী সকালে রসুল মিয়া বিয়ের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে। পরে গৃহকর্তী নারী বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনকে জানালে তাদের সহায়তায় ওই দিন থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য বিচার না করে উল্টো ধামাচাপা দেয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল করিম খোকা ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এই সালিশে সম্পৃক্ত নই, আমি ঘটনার সাথেও জড়িত নই। তবে ঘটনাটি নিয়ে অন্যান্য সালিশদাররা মিমাংসার জন্য বসেছিলেন বলে অবগত হয়েছি’।
অপরদিকে মামলার ছয়দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এ মামলায় এজহারভুক্ত কোন আসামী ও স্থানীয় শালিশদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে ফুলগাজী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
ফুলগাজী থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!