শহর প্রতিনিধি->>
ফেনী ইউনিভার্সিটিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।
ফেনী ইউনিভার্সিটি উপাচার্য মৎস বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. সাইফুদ্দিন শাহ’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সহ-সভাপতি শাহিদ রেজা শিমুল, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সদস্য আবদুস সাত্তার, নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব ডা. এ এস এম তবারক উল্যাহ চৌধুরী বায়োজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর তায়বুল হক, রেজিস্ট্রার এ এস এম আবুল খায়ের, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ও ফেনী ইউনিভার্সিটির আইন বিভিাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান বক্তব্য প্রদান করেন।

বানিজ্য অনুষদের সিনিয়র লেকচারার মাহজাবীন তাবাসসুম সুজানা ও আইন বিভাগের প্রভাষক সাখাওয়াত সাজ্জাদ সেজানের সঞ্চানায় উপস্থিত ছিলেন ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল কান্তি পাল, ব্যবসায় প্রশসান অনুষদের চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান কমিটির আহবায়ক সহযোগী অধ্যাপক আবুল কাশেম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ও ছাত্র উপদেষ্টা (ভারপ্রাপ্ত) আতাউল হাকিম মাহমুদ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফ্রেশার্স রিসিপশন-২০২০ আয়োজক কমিটির আহবায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে তিনি বলে; “আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্পটা বলতে চাই। আমি তখন স্কুলে পড়ি। তৎকালীন পকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়। সাইট সিলেকশন কমিটি’র প্রধান ছিলেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. ওসমান গনি। তাঁরা একটি সুবিধাজনক জায়গা খোঁজ করছিলেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের কাছে তাদের জন্য একটি রিসিপশান আয়োজন করা হয়। তখন আমাদের মধ্যে একটি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল যে পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়টি তাহলে ফেনীতেই হচ্ছে! আমার এখনো মনে আছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাইট সিলেকশন কমিটি কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ফেনী ভিজিট করেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রামেই স্থাপিত হয়। এটি ৫০ বছর আগের গল্প। তাই ফেনীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল।”

তিনি আরো বলেন, “নোয়াখালীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তাও ফেনী থেকে ৫০ মাইল দূরে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়ার পর ইউজিসি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। এসময় সাত্তার ভাই (আবদুস সাত্তার) রেজা সাহেব (শাহিদ রেজা শিমুল) সহ কয়েকজন ঢাকা ক্লাবে আমিসহ ফেনীর আরো কয়েকজন সঙ্গে মিটিং করি। সবারই নিজ এলাকার জন্য টান থাকে। আমার ক্ষেত্রেও তার বিকল্প নয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল উত্থাপন করি। প্রধানমন্ত্রীরও এ ক্ষেত্রে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। মফস্বলের শিক্ষার্থীদের জন্য কম খরচে উচ্চ শিক্ষার একটি আ লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বারোপ করেন। এভাবেই ফেনী ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।”

নবীন বরণ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান ফেনী ইউনিভার্সিটি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সাইফুদ্দিন শাহ। অনুষ্ঠানে নবীব শিক্ষার্থীদের বরণ করার পাশাপাশি শিক্ষা বৃত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। পরে স্থানীয়, জাতীয় পর্যায়ের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

Sharing is caring!