ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি->>
ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দুইবারের সাধারন সম্পাদক আজিজুল হক মানিকসহ তিন জনকে আসামী করে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে (মামলা নং-০৯/০৭-০২-২০) মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজিজুল হক মানিকের কথিত স্ত্রী রেহানা আক্তার সুমিকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের হালিশহর থানা পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রেহানা আক্তার সুমি ইয়াবাসহ চট্টগ্রামের হালিশহর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দুইবারের সাধারন সম্পাদক আজিজুল হক মানিক ও একই ইউনিয়নের লাংগল মোড়া গ্রামের মনির মেম্বারের ছেলে যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন সহ হালিশহর থানায় তিন জনের নামে মাদক আইনে মামলা করা হয়।

মামলার বিবরনে আরো জানা যায়, ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে হালিশহর থানার এএআই আবুল হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হালিশহর থানাধীন সবুজবাগ কালীবাড়ী এলাকা থেকে একজন মহিলাকে আটক করে। অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে তার ব্যাগ তল্লাশীকরে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের মূল্য-১৫ হাজার টাকা।

গ্রেফতারকৃত মহিলা আসামীকে তার ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিকে জানায়, তার নাম রেহেনা আক্তার সুমি (৩৫)। সে ফেনী জেলার সদর উপজেলার ধর্মপুর ওয়ার্ডের মোস্তফা সওদার বাড়ীর মোঃ মোস্তফার মেয়ে। সুমির হেফাজতে থাকা ইয়াবা ট্যবলেট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রেখেছে মর্মে পুলিশকে স্বীকার করে। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রধান আসামী রেহানা আক্তার সুমি (৩৫) ছাড়াও ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আমিন শরীফের ছেলে ঘোপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিুল হক মানিক (৪৫) ও ইকবাল হোসেনকে (৩৮) আসামী করা হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, এক বছর আগে রেহানা আক্তার সুমির সাথে স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকের মাধ্যমে তা মীমাংসা হয়ে কিস্তিতে সুমির ধার্য্যকৃত মোহরানার টাকা পরিশোধের সীদ্ধান্ত হয়। ধার্য্যকৃত টাকা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সুমি বুঝে নেবে। টাকার জন্য বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়া আসার সুযোগে মানিক চেয়ারম্যানের সাথে সুমির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাকে বিয়ের করার আশ্বাসও দেন চেয়ারম্যান। কয়েকদিন পূর্বে ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গত ৮ ডিসেম্বর ছাগলনাইয়া সমিতি বাজারে গুলিতে নিহত সিরাজ হত্যা মামলার আসামীদের ধরতে ময়মনসিংহের হালুওয়াঘাট উপজেলায় যায়। সেখানে আসামীদের সাথে সুমিকে পাওয়া যায়। তখন থেকে মানিক চেয়ারম্যানের সাথে সুমির প্রেম ও পরিনয়ের সম্পর্ক জানাজানি হয়। এরপর থেকে রেহানা বিয়ের জন্য চেয়ারম্যানকে চাপ দিচ্ছিলো। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে বিয়ে করার কথা বলে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যায়। এরপর রেহানা ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে আটক হয়।

এসব বিষয়ে ঘোপাল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক জানান,‘একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। রেহানার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি তাকে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করনোর প্রশ্নই আসে না। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।’

Sharing is caring!