সোনাগাজী প্রতিনিধি->>
সোনাগাজীতে সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সোনাগাজী শাখার ক্যাশে কর্মরত দুই কর্মকর্তা বরুণ কুমার ও মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও দুই কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত নারী গ্রাহক রৌশন আরা বেগম বাদি হয়ে মঙ্গলবার ৪ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, রৌশন আরা বেগম বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংক সোনাগাজী শাখার একজন নিয়মিত গ্রাহক। তিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিবার কল্যাণ সহকারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন। তার মাসিক পেনশন, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা বাবদ উপজেলা হিসব রক্ষণ অফিস থেকে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর ৫৮হাজার ৮৩৬ টাকার অ্যাডভাইসে গ্রহণ করেন। একই অ্যাডভাইসে আরো দুইজন নারী নমিতা রানী রায় ও লক্ষীরানী বসাকের সহ তিনজনের মোট ১ লাখ ৮০হাজার ৯২৪ টাকার হিসেব ছিল। ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে যাবতীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে সোনালী ব্যাংক সোনাগাজী শাখার ক্যাশ শাখার অফিসার বরুণ কুমারের নিকট কাগজপত্র জমা দেন। তিনি তাকে জানান টাকা দিতে দেরি হবে। আপনারা অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে ওই নারী হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বরুন কুমারকে তার সোনালী ব্যাংক হিসাব নং- ৪০১৭১০০১৪১০৭৫ এ জমা দেয়ার জন্য বলে একটি সাদা কাগজে তার হিসাব নাম্বারটি লেখে দিয়ে ব্যাংক ত্যাগ করে বাসায় চলে যান। পরবর্তীতে তিনি আর খোঁজ নেননি। গত ২২ জানুয়ারি তিনি ব্যাংকে গিয়ে টাকা উত্তোলন করতে গেলে জানতে পারেন তার উল্লেখিত সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে ৫৮হাজার ৮৩৬ টাকা জমা হয়নি।

তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি সোনাগাজী শাখার ব্যবস্থাপক ফরহাদ উদ্দিন কে অবহিত করেন। তিনি তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি সমধান করবেন বলে তাকে আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে তার ছেলে শাহ আজিজুর রহমান কে নিয়ে সর্বশেষ ৩ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকে গেলে তিনি (ব্যবস্থাপক) বিষয়টি সমাধান করতে পারবেননা বলে জানিয়ে দেন। ওই নারী দাবি করেন, ব্যাংকের ক্যাশ শাখার অফিসার বরুণ কুমার ও মনিরুল ইসলাম পরস্পর যোগসাজসে তার ৫৮হাজার ৮৩৬ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাত করেছে।
এসব ব্যাপারে ওই কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ফরহাদ উদ্দিন জানান, আমি যোগদানের পূর্বে ঘটনাটি ঘটেছিল। তারপরও আমি বিষয়টি জানার পর ওই দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা বলেছেন তারা টাকা আত্মসাত করেননি।

Sharing is caring!