নিজস্ব প্রতিনিধি->>
ফেনী জেলা প্রশাসন পরিচালিত ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের প্রথম পাঠ শুরু করছে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকাশনীর একাধিক বই দিয়ে। ভুলে ভরা এসব বই কিনতে গুণতে হচ্ছে উচ্চমূল্য। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ শিক্ষানুরাগীরা।

ফেনী শিশু নিকেতন স্কুল ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে মাধ্যমিক স্থরে উন্নীত করার সময় ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট হাইস্কুল নামকরণ করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুলটি পড়ালেখা করছে।
গত ২০১৯ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে সরকারী পাঠ্য বইয়ের বাহিরে পাঠ্য করা হয়েছে ভারতীয় বেশ কয়েকটি বই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুজন চৌধুরীর নির্দেশে স্কুল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের বতিঘর প্রশাসনা থেকে বই গুলো সংগ্রহ করে ফেনীর তিনটি লাইব্রেরীতে বইগুলো বিক্রী করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীর জানান, এই বিদ্যালয়ের নার্সারিতে ৩টি, কেজিতে ৩টি এবং এ-লেভেলের জন্য ১টি ভারতীয় বই পাঠ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেয়া নির্ধারিত ৩টি দোকানে পাওয়া যায় এসব বই। বইগুলো ভুলে ভরা আবার বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথেও সাংঘর্ষিক।

সাইমুম লাইব্রেরীর স্বত্তাধীকারী জানান, ‘জেলা প্রশাসনের এডিসি জেনারেল সুজন সরকার হলেন শিশু নিকেতনের সভাপতি। উনি, বিদ্যালয় কমিটি এবং প্রধান শিক্ষক- উনারা সম্মিলিতভাবে আমাদের এই বইগুলো বিক্রি করার জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

অভিভাবক জাফর জানায়, ভারতীয় ৫০ রুপির বই ১০০ টাকায়, ১০০ রুপির এই বই তাদের কিনতে হচ্ছে ৩০০ টাকায়।

দেশীয় সংস্কৃতি এবং প্রকাশনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন ফেনী সেন্ট্রাল হাইস্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নুরুল করিম মজুমদার। তিনি বলেন, সংস্কৃতির ভিন্ন একটি ধারার, ভিন্ন একটি চিন্তার এই বইগুলো পাঠ্য করা কোনোভাবেই সমীচীন হয়নি।

ভারতীয় বইকে পাঠ্য করা সমর্থনযোগ্য নয়, স্বীকার করে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে সে সব বই প্রত্যাহার করে দেশীয় বই পাঠ্য করা হবে।

Sharing is caring!