ঢাকা অফিস->>

ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার পেপারবুক ছাপানোর কাজ শেষ হয়েছে। এরইমধ্যে পেপারবুক সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেস থেকে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই এ শুনানির ব্যবস্থা করার কথাও জানান প্রধান বিচারপতি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান।

তিনি জানিয়েছেন, পেপারবুক হাতে পাওয়ার পর এখন পরবর্তী কাজ করছেন তারা। তিনি জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পেপারবুক ছাপানোর কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসে সেটিও হাইকোর্টে আসবে।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ মাদ্রাসার ততকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টের অনুমতি লাগে। যাকে ডেথ রেফারেন্স বলে।

সিআরপিসির ৩৭৪ ধারায় বলা হয়েছে, দায়রা আদালত যখন মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন, তখন হাইকোর্ট বিভাগের কাছে কার্যক্রম পেশ করতে হবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা হবে না।

এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো—সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় আসামিদের কয়েকজন। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় আসামিরা।

আগুনে দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে তিনি মারা যান।

Sharing is caring!