শহর প্রতিনিধি->>
ফেনীতে উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনপত্র প্রদান করা হয়েছে। রবিবার সকালে ফেনীর কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনপত্র প্রদান করেছে।

ফেনী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ’র অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জাব্বারের নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি আনন্দ শোভাযাত্রা কলেজ প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এর পরপর অধ্যক্ষ মো. রকিব উল্লাহর নেতৃত্বে ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ফেনী পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট, অধ্যক্ষ আরিফ আল মাহমুদের নেতৃত্বে আইসিএসটি’র শিক্ষক ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামানের নিকট প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনপত্র প্রদান করেন এবং জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত সবাইকে মিষ্টিমুখ করান।

উল্লেখ্য, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মেগা প্রকল্প “উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন” অনুমোদন কারিগরি শিক্ষার ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক। প্রকল্পটি মোট বিশ হাজার পাঁচশত পঁচিশ কোটি ঊনসত্তর লক্ষ টাকা ব্যয়ে ০৫ বছরে বাস্তবায়িত হবে।এতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১০৮০ জন হিসেবে মোট ৩,৫৫,৩২০ জন শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাবে।

জানা গেছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ-৭ম-৮ম শ্রেণিতে ৩৬০জন, ৪টি ট্রেডে এসএসসি (ভোকেশনাল)-এ ২৪০ জন, এইচএসসি (ভোকেশনাল)-এ ২৪০ জন ও ৪টি শর্ট কোর্সে ২৪০ জনসহ মোট ১০৮০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নের সুযোগ পাবে। অর্জিত দক্ষতার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থান হবে। ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানে রাজস্বখাতে মোট ২৪,০১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। ৬ষ্ঠ-৭ম-৮ম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে একটি করে কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রকল্পের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো উপজেলা পর্যায়ে ২০০ আসনের একটি ছাত্রী হোস্টেল থাকবে। এতে গ্রামাঞ্চলের মেয়েরা হোস্টেলে থেকে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে ও পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রতিটি টিএসসিতে একটি করে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভসহ একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মানসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন নিশ্চিত হলো। দেশের কারিগরি শিক্ষার ইতিহাসে বৃহত্তম প্রকল্পটি বাসÍবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জনগণের দোরগোড়ায় কারিগরি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অধিকতর জনপ্রিয় হবে।

Sharing is caring!