ঢাকা অফিস->>
দাগনভূঞার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুল হত্যার ফরমায়েশী তদন্তের অভিযোগে স্বজনদের ফের সংবাদ সম্মেলন করেছে স্বজনরা। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত ফখরুলের বড় বোন শাহীনুর আক্তার। এসময় তার মা রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। স্বজনরা এসময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুলকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘাতকদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছিল স্বজনরা।

লিখিত অভিযোগে ফখরুলের বড় বোন শাহীনুর আক্তার জানান, ফখরুল উদ্দিন চৌধুরী (৩০) দাগনভূঞা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সৌদি আরবে বসবাস করতেন। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি ফখরুল দেশে আসেন এবং ইতালী যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দেশে থাকা অবস্থায় চাঁদার দাবিতে ২০১৮ সালের ১৩ জানুয়ারি ফখরুলকে অপহরণ করে তিনদিন আটকে রেখে নির্যাতন চালায় দাগনভূঞার যুবলীগ নেতা পারভেজ, হীরা ও বাহাদুর। এর ৬ দিন পর ১৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফখরুলকে সন্ত্রাসীরা বাসা থেকে ডেকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

ওই সময় ফখরুলের মা বাসার সামনে গাড়ির পাশে দাগনভূঞার যুবলীগ নেতা পারভেজ, হীরা ও বাহাদুরকে স্পষ্ট দেখতে পান। পরের দিন ২০ জানুয়ারি সকালে স্থানীয় মাতুভূঞা ব্রীজের পাশে ফখরুলের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। নৃশংসভাবে হত্যার পর খুঁচিয়ে তার দু’চোখ উপড়ে ফেলে হত্যাকারীরা।
প্রথম দিকে দাগনভূঞা থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণেও গড়িমসি করে। হত্যার চারদিন পর ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি নিহতের ইটালী প্রবাসী ভাই নাজিম উদ্দিন দেশে এসে বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৯)।

মামলায় কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, তার দুই ভাই পারভেজ ও রাসেল ছাড়াও জাহিদ হাসান পলাশ হীরা, বাহাদুর, শামীম, মুজাহিদ ও এক মাইক্রোবাস চালকসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা প্রভাবশালী হবার কারণে শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়। সর্বশেষ মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তবে পিবিআই তদন্তের ভার পেলেও মামলায় তেমন কোন অগ্রগতি নেই।

শাহীনুর অভিযোগ করে বলেন, ‘পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তার আচরণ আমাদের কেবল আশাহত করেনি, উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতেই পিবিআই ফখরুল হত্যায় কথিত হাইস মাইক্রোবাস চালক ও কিশোর বয়সী হেলপারকে গ্রেফতার করে তাদের দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে। আরো উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে কথিত দুই আসামি স্বীকারোক্তিতে যাদের নাম উল্লেখ করেছে তারা সকলে এজাহার বহির্ভূত এবং তাদের ব্যাপারে আমাদের কোনো অভিযোগ কিংবা ন্যূনতম সন্দেহ নেই। এসব বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আলাপ করতে গেলে আমরা উল্টো হুমকি এবং রূঢ় আচরণের শিকার হচ্ছি।’

Processed with MOLDIV

তিনি আরো বলেন, তদন্তের প্রথম দিকে এজাহারভুক্ত কয়েক আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও কারো জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। প্রধান আসামি পারভেজকে অস্ত্রসহ আটক করা হলেও নথিতে সেই অস্ত্রের হদিস নেই। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে আসামিরা উল্টো নিহতের স্বজনদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে তাদের কব্জা করার কৌশল নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, এজাহারভুক্ত আসামিরা একাধিক মামলার আসামি। প্রধান আসামি পারভেজের বিরুদ্ধে দাগনভূঞা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সোনাগাজী ও চৌদ্দগ্রাম থানায় ৭টি হত্যা মামলাসহ একাধিক বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। এরপরও আসামিরা প্রকাশ্যে থেকে এলাকায় নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে। পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা ফরমায়েশী তদন্তের নামে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করছেন বলে তারা অভিযোগ করেনন।
এ ব্যাপারে নিহতের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলন করে ফখরুলের বোন শাহিনুর আক্তার। ওই সংবাদ সম্মেলনে দাগনভূইয়া পৌর কাউন্সিলর সাইফুল ইসলামের নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুল উদ্দিন চৌধুরীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান।

এর আগে ফখরুল হত্যার তিন দিন পর তাঁর বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নিহতের স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন নিহতের ভাই ইতালি প্রবাসী নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে দাগনভূঞা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল উদ্দিন চৌধুরীর খুনীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।

Sharing is caring!