সোনাগাজী প্রতিনিধি->>>>
সোনাগাজী উপজেলার মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামে জমির বিরোধ নিয়ে এক ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপর ভাই ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে ককটেল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোনাগাজী আঞ্চলিক হাঁসপ্রজনন খামারের দক্ষিণ পাশে মোস্তাফা লন্ডনীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ট্রিপল নাইনে কল দিয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বড় ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রবাস ফেরৎ যুবক মোশাররফ হোসেন। পুলিশ একটি কিরিচ, বোতল ভর্তি আদা লিটার পোট্রোল ও একটি ককটেল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মোশারেফের মা মেহেনেকা বেগম বাদি হয়ে সন্তান বেলায়েত হোসেন সেলিমকে প্রধান আসামি করে সোনাগাজী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে মোশাররফ ও তার পরিবারের সদস্যরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী, পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, মোস্তফা মিয়ার তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সেলিম ভাইদের মধ্যে সবার বড়। মায়ের স্বর্নগয়না ও পৈত্রিক জমি বিক্রি করে সেলিমকে সৌদি আরব পাঠান। পরবর্তীতে অপর দুই ভাই মোশাররফ হোসেন ও কামাল উদ্দিনকে সৌদি পাঠানো হয়। যৌথ পরিবারের কর্তা হিসেবে কামাল ও মোশাররফ বড় ভাই সেলিমের কাছে জীবনের সকল উপার্জনের টাকা দিতে থাকেন। তিন ভাইয়ের উপার্জিত অর্থ ও পৈত্রিক জমি বিক্রি করে সোনাগাজী পৌরসভার মাহবুব চেয়ারম্যানের বাড়ির দরজায় জমি ক্রয় করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনটি তার নামে অর্থাৎ সেলিম ম্যানশন নামে নামকরণ করা হয়। ভবন ও জমির মালিকানার বিষয়টি এতদিন গোপন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেলিমের মা, ভাই ও বোনেরা জানতে পারে জমি ও ভবনটি সেলিম নিজ নামে ক্রয় করে নিয়েছেন। তখন তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। ভবনের মালিকানা দাবি করলে সেলিম পিতার বসতবাড়িতে গিয়ে বসত ঘরের সামনে দিয়ে একটি ভবন নির্মাণ বাজ শুরু করেন। এসব বিষয়ে বিরোধ তুঙ্গে উঠলে সেলিম তার মাকে মারধর করেন। এব্যাপারে তার মা বাদি হয়ে ইউপি কার্যালয়ে, থানায় ও সর্বশেষ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত সেলিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী জারি করলে সেলিম আদালতে হাজীর হয়ে জামিন চাইলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। এসব বিষয়ে সেলিমের মামা আহসান উল্যাহ প্রতিবাদ করলে তাকেও ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে মারধর করায় সেলিম। পরবর্তীতে তার ছোটভাই মোশাররফ হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা মোতাবেক আদালতে প্রতিকার প্রার্থনা করেন। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পৌর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সোনাগাজী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তাদের দাবি, এসব পুর্ব শত্রুতার জেরে সেলিমের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মোশারফের বসতঘরের চতুর্দিকে ১৫/২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ঘরের চাররপাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা চালায়। ককটেলের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র, একটি ককটেল ও পেট্রোল রেখে পালিয়ে যায়। মেহেনেকা বেগম বলেন, সেলিম তার ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমার ছেলে মোশাররফ ও আমাকে হত্যার জন্য বসতঘরে বোমা হামলা করেছে এবং ঘরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করেছে। রাতে পুলিশের হেল্পলাইন ট্রিপল নাইনে ফোন দিলে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশদল ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বেলায়েত হোসেন সেলিম বলেন, মোশারফ আমার ভাই, তার সাথে আমার ভূমি নিয়ে বিরোধের মামলা রয়েছে। তাই আমাকে ফাঁসানোর জন্যই মোশাররফ এসব করেছে।
সোনাগাজী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিষ্ফোরিত হাত বোমার খোসা, বোতল ভর্তি পেট্রোল ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। সেলিম ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার মা মেহনেকা বেগম বাদি হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Sharing is caring!