ডেক্স রিপোর্ট->>

নানা ঘটনা দুর্ঘটনায় পার হয়েছে বছর। আলোচিত ঘটনার হাতেগোনা কয়েকটি ছিল অর্জন আর সাফল্যের। বেশিরভাগ ঘটনা ছিল অঘটন আর প্রাণহানির। এসব ঘটনায় বাকরুদ্ধ দেশের মানুষ। কখনও কখনও প্রতিবাদে জেগেছে লাখো মানুষ। কখনও বিস্ময়ে ব্যথিত হয়েছে বিবেক। আবার কোন ঘটনা অন্যায় আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আশাবাদী করেছে মানুষকে। বছরের শুরুতে নতুন সরকার গঠন করে রেকর্ড টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বছর শেষে দলীয় কাউন্সিলে টানা নবম বারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নতুন রেকর্ডে নাম লেখিয়েছেন তিনি। বছরের শুরুতেই ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড নাড়া দেয় পুরো দেশকে। শিক্ষক নামের ঘাতকের পৈশাচিকতার শিকার নুসরাতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিচারের দাবি তুলে পুরো দেশের মানুষ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এর বিচার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে রেকর্ড দ্রুততায়। বছরের মধ্যেই দায়ীদের মৃত্যুদন্ডের রায় আসে আদালত থেকে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মতোই পুরো দেশের মানুষকে বাকরুদ্ধ করে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড। একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে নারকীয় কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে টানা দুইমাস বন্ধ থাকে বুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিবাদের ঝড় উঠে সারা দেশে। সব ধরণের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য সাকিব আল হাসানের ওপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞা ক্রিকেট প্রেমীদের আহত করে। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা লাগে জাতীয় ক্রিকেট দলেও। বছরের শুরুতে ঢাকসু নির্বাচন ছিল সারা দেশে আলোচনার বিষয়। ওই নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়ে ভিপি নির্বাচিত হন সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর। সাধারণ ছাত্রদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা নূর বছর জুড়েই ছিলেন আলোচনায়। নানা দাবিতে মুখর নূর বার বার হামলা মামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশকাণ্ড বিস্ময়ে অবাক করেছে দেশবাসীকে। ওই প্রকল্পে কেনাকাটার অনিয়মের তথ্য হার মানিয়েছে অতীতের সব অনিয়মকে। নিজের স্ত্রীকে পেতে কথিত বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনাও দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আলোচিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে। চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা চোখের পানি ঝরিয়েছে দেশের মানুষের। এছাড়া বনানীর এফ আর টাওয়ার, কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাও নাড়া দিয়েছে মানুষকে।

শেখ হাসিনা:
২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর হওয়া নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থ বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। আর টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৫৯টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিরোধীরা অংশ নিলেও ভোটের আগের রাতেই ভোট দেয়ার অভিযোগ তুলে। ৩রা জানুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সংসদ নেতা নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। ৭ই জানুয়ারি শপথ নেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়া শেখ হাসিনা শুরু থেকেই পরিবর্তন পরিবর্ধনের মাধ্যমে সরকারের কাজে গতি সঞ্চারের চেষ্টা করেন। এছাড়া দল ও সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ও ত্বড়িৎ সিদ্ধান্ত দিয়ে তিনি বছর জুড়েই ছিলেন আলোচনায়। বছর শেষে ২০ ও ২১শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে টানা নবম বারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। এক নাগাড়ে ৩৮ বছর দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসা শেখ হাসিনা দলীয় দায়িত্ব পালনেও রেকর্ড গড়লেন। কাউন্সিলের পর নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও বাস্তবতার আলোকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সাকিব আল হাসান:
বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বছর জুড়েই ছিলেন আলোচনায়। শুরুতে আলোচনা ছিল তার অর্জন নিয়ে। দেশের হয়ে ক্রিকেটে দ্যুতি ছড়িয়েছেন বারবার। কিন্তু আক্টোবরে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর তা গোপন করায় বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আইসিসি। দোষ স্বীকার করায় তার এক বছরের শাস্তি স্থগিত থাকবে। সাকিবের এই শাস্তি নাড়া দেয় পুরো ক্রিকেট দুনিয়া। দেশের ক্রিকেটেও বড় ধাক্কা লাগে এই নিষেধাজ্ঞা। আইসিসি’র নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০২০ সালের ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেটে মাঠে নামতে পারবেন না সাকিব।

নুসরাত হত্যাকান্ড:
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিলো। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ ও থানায় মামলা করায় তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ২৭শে মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় শ্লীলতাহানীর অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন নুসরাতের মা। মামলার পর থেকে অধ্যক্ষের অনুসারীরা মামলা তোলার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলো। ৬ই এপ্রিল পরীক্ষা হল থেকে অধ্যক্ষের নির্দেশে মাদ্রাসার একটি ভবনের ছাদে নিয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। এতে নুসরাতের শরীরের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। দগ্ধ নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

সেখানে ৫দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে চলে যান নুসরাত। পিবিআই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে হুকুমের আসামি করে আরও ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ২৪শে অক্টোবর এ মামলার রায়ে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। নুসরাতের শ্লীলতাহানীর জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ায় সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড:
বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড কাঁদিয়েছে পুরো দেশের মানুষকে। গত ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। এ ঘটনার পর থেকে খুনীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। টানা দুই মাস বন্ধ থাকে বুয়েটের শিক্ষা কাযক্রম। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৯ ছাত্রকে বহিস্কার করে বুয়েট। ওই ঘটনায় আবরারের বাবার করা মামলায় ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরেন তারা।

নূরুল হক নূর:
মূলত সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের জের ধরেই আলোচনায় আসেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতা নুরুল হক নূর। নির্দলীয় কোটা সংস্কার আন্দোলন জনপ্রিয়তা বাড়ে নূরের। জনপ্রিয়তায় ভর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নির্বাচনে ছাত্রলীগ সভাপতিকে হারিয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দেন নুর। ভিপি হলেও ছাত্রলীগসহ একটি পক্ষের রোষানলে পড়ে বার বার হামলার শিকার হন তিনি। এ পর্যন্ত কয়েক দফা হামলায় আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সর্বশেষ ডাকসুতে নজিরবিহীন হামলায় তিনিসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হন। নুরসহ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রিফাত হত্যাকাণ্ড:
জুনে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী মিন্নি ও শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মো. শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে। রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। খুনীদের বিচারের দাবি উঠে সর্বত্র। বিতর্ক তৈরি হয় তার স্ত্রী মিন্নির ভূমিকা নিয়ে। দেশ বিদেশে আলোচিত এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। এঘটনায় মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। যদিও মিন্নির অবস্থান নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে।

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান:
বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। এই অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানে একের পর এক গ্রেপ্তার করা হয় ক্যাসিনো ডন, তাদের সহযোগী ও টেন্ডারবাজদের। ১৮ই সেপ্টেম্বর ঢাকার ক্যাসিনো পাড়ায় সর্বপ্রথম অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই দিনই ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে যুবলীগ দক্ষিণের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়াকে। এরপর খালেদের মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে ক্যাসিনো হোতা ও তার সহযোগীদের নাম। এরই ধারাবাহিকতায় দুদিন পর গণপূর্তের ত্রাস টেন্ডার মোঘল জি কে শামীমকে। ২৪শে সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এনামুল হক ও সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপম ভূইয়ার ৫টি ভল্ট থেকে উদ্ধার করা হয় ৭২০ ভরি স্বর্ণ ও ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২৬শে সেপ্টেম্বর রাতে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে মোহামেডান স্পোর্টি ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন ভূ্‌ইয়াকে। তারপর একে একে অনলাইন ক্যাসিনো হোতা সেলিম প্রধান, নানা আলোচনা সমালোচনার পর গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি ইসমাই চৌধুরী সম্রাটকে। খুন মাদক চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন মোহাম্মদপুরের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান পাগলা মিজান ও দখলবাজির অভিযোগে মোহাম্মদপুরের সুলতান খ্যাত কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবও।

এ অভিযান শুরুর আগে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠায় প্রথম বারের মতো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ করা হয়। ক্যাসিনো কাণ্ডে যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের জড়িত থাকার তথ্য আসায় তাদের বিরুদ্ধেও শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়।

বালিশ কাণ্ড:
দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন পল্লীর বিছানা, বালিশ, আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনের বিভিন্ন তলায় তোলায় লাগামছাড়া দুর্নীতির ঘটনা ছিল দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়। ওই প্রকল্পে একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয় ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর ওই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা। একইভাবে অন্যন্য আসবাব ক্রয়েও এমন অস্বাভাবিক মূল্য দেখানো হয়। গণমাধ্যমে এই দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি এবং গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুটি কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় ৩৪ কর্মকর্তা বা ব্যক্তি এ অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তিনি বলেন, এর মধ্যে চার কর্মকর্তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলাসহ আইনী প্রক্রিয়া চলছে।

অগ্নিকাণ্ড:
বছরের মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর অন্যতম পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা ও বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড, সর্বশেষ কেরানীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও নাড়া দিয়েছে সবাইকে। ২০শে ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হন। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘটনাস্থলে থাকা মানুষগুলো। পরে ডিএনএ টেস্ট করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২৮শে মার্চ বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটিও সারা দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছিলো। বহুতল ওই ভবনে আগুন লাগার দৃশ্য টেলিভিশনে সম্প্রচারের সময় মানুষের বাঁচার আকুতি কাঁদিয়েছিল অনেক মানুষকে। সর্বশেষ কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় লাগা আগুনে ২২ জনের মৃত্যু হয়। ওই অগ্নিকাণ্ডে কারখানায় থাকা প্রায় সব শ্রমিকই দগ্ধ হন।

বিমান ছিনতাই:
চট্টগ্রামে অস্ত্রের মুখে বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টা ছিল বছরের আলোচিত ঘটনার একটি। এ ঘটনা সারা দেশে আলোচিত হয় কয়েক দিন ধরে। দেশের ইতিহাসে এর আগে এধরনের ঘটনা ঘটেনি। চিত্রনায়িকা সিমলার সাবেক স্বামী পলাশ আহমেদ ২৪শে ফেব্রুয়ারি ‘পারিবারিক বিরোধ মেটাতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার’ জন্য এ ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন। পরে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। সেনা বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পলাশ নিহত হয়।

সূত্র :দৈনিক মানবজমিন

Sharing is caring!