নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীর প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সিলেট-চট্টগ্রামের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ড. আতাউর রহমান জানান, ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাচীন নিদর্শনগুলো। এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো শুধু ফেনীর নয়, পুরো বাংলাদেশের সম্পদ। তাই এসব নিদর্শন সংরক্ষণ ও সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি ছাগলনাইয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পরিদর্শন করেন ড. আতাউর রহমান এসব নিদর্শন সংরক্ষণের ব্যাপারে অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ছাগলনাইয়ার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রস্তাবনার অর্থ বরাদ্দ পেলে প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর নির্মাণ, পর্যটকদের জন্য শমসের গাজী দীঘি ও কৈয়ারা দীঘির ঘাট সংস্কার, চারপাশে চলাচলের পাথওয়ে নির্মাণসহ ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণে পদক্ষেপ নেবে অধিদপ্তর।

সম্প্রতি সিলেট-চট্টগ্রামের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগদান করেন ড. আতাউর রহমান। গত শনিবার ফেনীতে এলে ছাগলনাইয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে সেসবের করুণ অবস্থা দেখে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, বিগত বহু বছর ধরে নিদর্শনগুলো সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এ ব্যাপারে কেউ কোন উদ্যোগ নেয় নি। আমাদেরকেও কেউ জানায়নি। এসব নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর তথ্য সংগ্রহ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ আমি ঘুরে দেখেছি। কিন্তু বিশেষ করে এশিয়াতে কোথাও এক জায়গাতে একসাথে ১০টি মন্দির আমি কোথাও দেখিনি। যা ফেনীর ছাগলনাইয়ায় রয়েছে। এসব বিরল নিদর্শনগুলো এখনই সংরক্ষণ করা না গেলে চিরতরে হারিয়ে যাবে।

এসময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় বর্তমান সরকারের ভূমিকা কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতি বান্ধব সরকার। ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণে নজর দিয়েছে। সেসব সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি বরাদ্দ পেলে ফেনীর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে পুরো জাতির সামনে উম্মোচন করা যাবে।

Sharing is caring!